মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায় করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হড়িনা ঘাট ও বয়ড়া ইউনিয়নের বয়ড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হারুকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জানান, "পদ্মানদীতে চলাচলকারী বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের সময় তিনটি স্পিডবোটে করে এসে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে দুর্বৃত্তরা তাদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে হেলমেট ও মাস্ক পরা ৩০-৩৫ জন লোক হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এদের মধ্যে তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন আবিদুর।"
আহত জীবন চৌধুরী সজল জানান, "৩০-৩৫ জন এসে প্রথমে আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা যুবদলের মুকুলকে খুঁজতে থাকে। মুকুলকে না পেয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। আমাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।"
মারধরে আহত শাহ আলম, নাসির, লোকমান, মিনার চৌধুরী, সাদ্দাম হোসেন, মো. শামীম ও সুজন হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাব্বির হোসেন সেতু, হারুকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান ও আন্ধারমানিক গ্রামের আলী আজমকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক অর্পিতা সাহা জানান, "আহত অবস্থায় ১১ জন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, "পদ্মা নদীতে চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"