সরকারি কার্যালয়ের কম্পিউটার থেকে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বেশ কিছু সরকারি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের উইন্ডোজ ১০-এর পরিবর্তে লিনাক্সভিত্তিক দেশীয় অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চীনের সরকারি কম্পিউটারগুলোতে ব্যবহৃত উইন্ডোজ ১০ সাধারণ সংস্করণের মতো নয়। এটি মাইক্রোসফট এবং চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সিঅ্যান্ডএম ইনফরমেশন টেকনোলজিস (সিএমআইটি) বিশেষভাবে তৈরি করেছিল। বেইজিংয়ের নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করাই ছিল এই বিশেষ সংস্করণের মূল উদ্দেশ্য।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ উইন্ডোজ ১০ সংস্করণটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস আগেই তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। এই সংস্করণে মাইক্রোসফটের প্রচলিত ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবস্থার বদলে চীনের নিজস্ব এনক্রিপশন অ্যালগরিদম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ আগে নেওয়া এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মী বিস্মিত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, "উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো নিরাপত্তাত্রুটির বিষয়ে মাইক্রোসফট অবগত নয়।" তিনি আরও জানান, সংস্করণটির নিরাপত্তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত এপ্রিলে ফ্রান্সের সরকারি কার্যালয়ে উইন্ডোজের পরিবর্তে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জার্মানি, ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়াও মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।