ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেও দ্বিতীয় টেস্টে সেই একই পরিকল্পনা অনুসরণ করতে নারাজ নাজমুল হোসেন শান্ত। কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য আক্রমণ বিবেচনা করে খেলার ধরন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ম্যাকেতে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘গত টেস্টে আমাদের পরিকল্পনা ছিল ধৈর্য ধরে খেলা। তবে আমাদের ভিন্ন পরিকল্পনাও আছে। প্রতিটি টেস্ট আমরা একইভাবে খেলব না।’
প্রথম টেস্টে ডারউইনের পিচে ব্যাটাররা তাড়াহুড়া না করে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে ছিলেন এবং বোলাররা ধৈর্যের সাথে অস্ট্রেলিয়ার ভুলের অপেক্ষা করেছিলেন। শান্তর মতে, এই ধৈর্যই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেট ডারউইনের চেয়ে আলাদা হতে পারে এবং এখানে বাউন্স বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই উইকেট ও কন্ডিশন দেখেই চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজাবে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়া কীভাবে আক্রমণ করতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। অধিনায়ক জানিয়েছেন, প্রয়োজনে উপমহাদেশের খেলার ধরন থেকে বেরিয়ে ভিন্ন কৌশলে খেলতে তারা প্রস্তুত। তবে বাড়তি বাউন্স নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন শান্ত, কারণ সফরের আগে এবং ম্যাকাইয়ে অনুশীলনে ব্যাটাররা এই চ্যালেঞ্জ সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।
পেস সহায়ক উইকেটের সম্ভাবনা থাকলেও দুই স্পিনার খেলানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি শান্ত। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পিন আক্রমণ খুবই অভিজ্ঞ।’
অধিনায়কের বিশ্বাস, যেকোনো কন্ডিশনে কার্যকর হওয়ার সামর্থ্য রয়েছে দলের স্পিনারদের। তবে চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচনের আগে উইকেট আরও একবার খতিয়ে দেখবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ম্যাকে টেস্টে জয় অথবা ড্র করলেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে শান্তদের। আর জিতলে স্বাগতিকদের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে জেতার নতুন ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ। তবে ইতিহাসের চেয়ে মাঠের লড়াই এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেই এখন বেশি মনোযোগী অধিনায়ক শান্ত।