ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ময়জেস হেনরিকস। যার মধ্যে ছিল ৪টি টেস্ট, ১৬টি ওয়ানডে ও ২৪টি টি-টোয়েন্টি। তবে এত ম্যাচের পরও অজিদের হয়ে তিন অঙ্কের মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি হেনরিকসের। এবার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে সেই অপূর্ণতা ঘুচল তার, তবে তা অস্ট্রেলিয়া নয়, তার নিজ জন্মভূমি পর্তুগালের হয়ে।
২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপীয় উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হেনরিকস। দলটির হয়ে এটি ছিল তার তৃতীয় ম্যাচ। নতুন দেশের জার্সিতে মাত্র তিন ম্যাচেই পেয়ে গেলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। চেকিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫১ বলে ১১১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
হেনরিকসের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে চেকিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে পর্তুগাল। জবাবে ৮ দশমিক ৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৪ রান করতে পারে চেকিয়া। এরপর বৃষ্টিতে আর খেলা সম্ভব না হলে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৯১ রানের জয় পায় পর্তুগাল।
ফিনল্যান্ডে চলমান ইউরোপীয় উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের সব কটিতেই জিতেছে পর্তুগাল। তিন ম্যাচ খেলে ১৭৮ রান করা হেনরিকস প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও।
পর্তুগালের হয়ে অভিষেকটাও স্মরণীয় করেছিলেন তিনি। ইসরায়েলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েছিলেন। সেই ইনিংসের সুবাদে দুই দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশ বা তার বেশি রান করা মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হন হেনরিকস। তার আগে এই কীর্তি ছিল মার্ক চ্যাপম্যান, টিম ডেভিড, কোরি অ্যান্ডারসন ও নীতীশ কুমারের। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হেনরিকসের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল অপরাজিত ৬২ রান।
পর্তুগালের মাদেইরায় জন্ম হেনরিকসের। শৈশবে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর পর সেখানেই গড়ে ওঠে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। দীর্ঘদিন নিউ সাউথ ওয়েলস ও সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন ৪টি টেস্ট, ১৬টি ওয়ানডে ও ২৪টি টি-টোয়েন্টিতে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন পাঁচ বছর আগে। গত মাসে দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও অবসরের ঘোষণা দেন। তবে ক্রিকেটকে পুরোপুরি বিদায় না জানিয়ে এবার জন্মভূমি পর্তুগালকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।
বাছাইপর্বে টানা চার জয়ের পরও পর্তুগালের পরবর্তী ধাপ নিশ্চিত হয়নি। শুক্রবার গ্রুপের আরেক অপরাজিত দল স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচের জয়ী দল স্কটল্যান্ড, জার্সি ও ডেনমার্কের সঙ্গে ইউরোপীয় আঞ্চলিক ফাইনালে জায়গা করে নেবে।