আগস্টের শুরুর দিকের এক সন্ধ্যা। লিসবনের একটা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে আছেন একজন মানুষ, যাঁর গোটা জীবনটাই কেটেছে মাঠের ঠিক মাঝখানে, আলোর কেন্দ্রবিন্দুতে।
তবে সেদিন তিনি দর্শক।
বিশ্বকাপের পর ছুটি কাটাতে কাটাতেই একটা প্রীতি ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই মানুষটা। মাঠে নেমেছে দুটি দল। একটাতে মিশে আছে তাঁর কয়েক বছরের ঘাম। আরেকটাতে সদ্য ঢেলেছেন তাঁর অর্থ। আল নাসর, যাদের জার্সি গায়ে এখনো প্রতি সপ্তাহান্তে তিনি দৌড়ান। আর আলমেরিয়া, যে ক্লাবের কিছু শেয়ার এই বছর ফেব্রুয়ারিতেই তিনি কিনে নিয়েছেন।
খেলা শেষ হলো ২-০ গোলে। যে দলের জার্সি পরেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, সেই দলটাই হারল। যে দলে তাঁর টাকা লগ্নি করা, জিতল সেই দল।
গ্যালারিতে বসে সেদিন ঠিক কী অনুভব করেছিলেন রোনালদো, তা জানার উপায় নেই। কিন্তু সেই একটা সন্ধ্যায় যেন ধরা পড়ে গেল আজকের ফুটবলের সবচেয়ে অদ্ভুত এক বাস্তবতা। একসময় অবসরের পরও ফুটবলের সঙ্গে জড়িত থাকতে গেলে ফুটবলারদের পথ ছিল দুটো। কোচিং করানো কিংবা বিশ্লেষক হওয়া। এখন আছে তৃতীয় পথ। সবচেয়ে লোভনীয়ও বোধ হয় সেটাই। ক্লাবের কর্মচারী নয়, সরাসরি অংশীদার হওয়া।
.তবে কেউ কেউ এখন আর অবসরের জন্য অপেক্ষা করছেন না। খেলোয়াড় থাকা অবস্থাতেই হয়ে যাচ্ছেন ক্লাবের মালিক। এই যে দ্বৈত সত্তা, একই সঙ্গে খেলোয়াড় আর মালিক, এটাও কাকতালীয় কোনো ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে এটাই হয়ে উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রবণতাগুলোর একটা।
শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলাররা এখন যে বেতন আর বিজ্ঞাপনী চুক্তি পান, তাতে আর্থিক ক্ষমতাও তাঁদের হাতে যথেষ্ট। আর ফুটবল নিজেও তো এখন আর নিছক একটা খেলা নয়, শত বিলিয়ন ডলারের এক বিনোদন-সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের কিছুটা অংশের মালিক হতে পারলে লাভই বরং, লোকসান কম।
এই প্রবণতা জনপ্রিয় করার কৃতিত্ব সাধারণত দেওয়া হয় ডেভিড বেকহামকে। ২০১৮ সালে ইন্টার মায়ামি নামের নতুন এমএলএস ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করে তিনিই পথ দেখিয়েছিলেন। যে প্রকল্প পরে আরও বড় হয়েছে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসিকে টেনে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক সতীর্থ গ্যারি নেভিলের সঙ্গে মিলে ইংল্যান্ডের লিগ টু-র ক্লাব সলফোর্ড সিটিও চালান বেকহাম।
তাঁর সেই ছক এখন অনুসরণ করছেন অনেকেই। ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব রিয়াল ভায়াদোলিদের বেশির ভাগ শেয়ারের মালিক। বার্সেলোনার কিংবদন্তি জেরার্ড পিকে একই বিভাগের ক্লাব এফসি অ্যান্ডোরার হাল ধরে আছেন। সাবেক এসি মিলান ও ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ সুইডেনের শীর্ষ লিগের ক্লাব হ্যামারবাইয়ের সহমালিক। প্রিমিয়ার লিগের কিংবদন্তি সেস্ক ফ্যাব্রিগাস ও থিয়েরি অঁরি দুজনেই সিরি আ-র ক্লাব কোমোর কিছু শেয়ারের মালিক, ফ্যাব্রিগাস আবার দলটার প্রধান কোচও!
বুট জোড়া তুলে রাখার আগেই ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত করে রাখছেন আরও অনেক সক্রিয় ফুটবলার। তার মধ্যে ছয়টা প্রকল্প এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত। শুরুটা করা যাক কাতালোনিয়ার পালিত সেই আদরের ছেলেটার ঘরে ফেরার গল্প দিয়ে।
.এপ্রিল মাস। স্পেনের পঞ্চম স্তরের ক্লাব কর্নেয়া হঠাৎ এক বিবৃতি দিয়ে জানাল, লিওনেল মেসি তাদের শতভাগ মালিকানা কিনে নিয়েছেন। বার্সেলোনা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে, একই নামের ছোট্ট এক শহরে ক্লাবটার ঠিকানা। আর বার্সেলোনাতেই তো টানা ১৭ বছর কাটিয়েছিলেন মেসি।
ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বার্সেলোনায় কাটানো তাঁর দীর্ঘ বছরগুলোর মধ্য দিয়েই এই সম্পর্কের শুরু, আর তারপর থেকে তা অক্ষুণ্ন রয়েছে। কাতালোনিয়ার খেলাধুলা আর স্থানীয় প্রতিভা গড়ে তোলার প্রতি মেসির যে দায়বদ্ধতা, তারই প্রতিফলন এই পদক্ষেপ।’
এরপর এক ভিডিও বার্তায় ক্লাবের খেলোয়াড় ও কর্মীদের সরাসরি সম্বোধন করেন মেসি, নিজের পরিচয় দেন আনুষ্ঠানিকভাবে, পাশে থাকার কথা জানান তাদের প্রমোশনের লড়াইয়ে, যদিও শেষমেশ সেই লড়াই প্লে-অফেই থেমে গেছে।
মাঠের ফলাফলে বদল আসতে সময় লাগবে। কিন্তু ক্লাবের বৈশ্বিক পরিচিতিতে মেসির প্রভাব পড়েছে সঙ্গে সঙ্গেই। তাঁর যোগ দেওয়ার পর কর্নেয়ার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা হাজার থেকে একলাফে পৌঁছে যায় লাখের ঘরে।
.বৃষ্টির বিকেলে ক্যানিজিয়ার আবেগী সুর, ‘একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপে খেলবে’.কর্নেয়ার একাডেমি থেকে উঠে এসে স্প্যানিশ ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এমন খেলোয়াড়ের অভাব নেই। মেসির বার্সেলোনা ও মায়ামির সাবেক সতীর্থ জর্দি আলবা এই ক্লাবেই বেড়ে উঠেছেন। বার্সেলোনার বর্তমান ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন কিংবা আর্সেনালের গোলরক্ষক দাভিদ রায়াও কর্নেয়ারই সন্তান। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব ২০২১ সালে কোপা দেল রেতে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল গোটা স্পেনে।
ইউরোপে এটাই মেসির প্রথম ক্লাব কেনা, কিন্তু মালিক হিসেবে তাঁর হাতেখড়ি আসলে হয়ে গেছে আরও আগে, সমুদ্রের ওপারে। উরুগুয়েতে সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে গড়ে তুলেছেন দেপোর্তিভো এলএসএম নামের নতুন এক পেশাদার দল, যারা খেলছে দেশটার চতুর্থ স্তরের লিগে।
.চল্লিশ পেরিয়ে একদিন রোনালদো নিজেই বলেছিলেন, ‘যদি আমি ক্লাবের মালিক হতে পারি, তাহলে আর কেন কোচ কিংবা স্পোর্টিং ডিরেক্টর বা প্রধান নির্বাহী হব?’ এরপর জানিয়েছিলেন, একদিন ‘বেশ কয়েকটা’ ক্লাবের মালিক হতে চান!
সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপটা তিনি ফেলেছেন ফেব্রুয়ারিতে। নিজের প্রতিষ্ঠান সিআর৭ স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টসের মাধ্যমে কিনে নিয়েছেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ শেয়ার।
.আলমেরিয়ার মূল মালিক এক সৌদি বিনিয়োগ জোট, নেতৃত্বে মোহামেদ আল খেরেইজি। রোনালদোর এই যোগদান নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের ক্লাবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এতে আমরা দারুণ আনন্দিত। স্প্যানিশ লিগ সম্পর্কে তাঁর চমৎকার ধারণা আছে, আর আমরা দল ও একাডেমি নিয়ে যে প্রকল্প গড়ে তুলছি, তার সম্ভাবনাও তিনি বোঝেন।’
স্প্যানিশ ফুটবলের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্কটাও নেহাত কম গভীর নয়। রিয়াল মাদ্রিদে ৯ মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি—২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত। ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই, জিতেছেন দুটো লা লিগা আর চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।
আলমেরিয়া সর্বশেষ লা লিগায় খেলেছে ২০২৪ সালে, আর এবারের জুনেই প্লে-অফ ফাইনালে মালাগার কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে হেরে অল্পের জন্য ফেরার সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ক্লাব এরই মধ্যে নতুন কোচ হিসেবে নিয়ে এসেছে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে ২০ বছর কোচিং করানো গার্সিয়া পিমিয়েন্তাকে। ২০২৬-২৭ মৌসুমে সরাসরি লা লিগায় প্রমোশন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সই করানো হয়েছে সাতজন নতুন খেলোয়াড়কে।
আগস্টের শুরুর সেই লিসবনের সন্ধ্যাটা তাই নিছক কাকতাল ছিল না। এক অর্থে সেটাই ছিল রোনালদোর নতুন জীবনের প্রথম ঝলক!
.স্প্যানিশ ফুটবলের গোপন সোনার খনি আসলে যেখানে.ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ক্লাবপ্রেম প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এক বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর অংশ হয়ে পর্তুগালের ক্লাব আলভেরকার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন তিনি, খরচ হয় প্রায় এক কোটি ইউরো। সময়টা বেছে নিয়েছিলেন যেন ভবিষ্যৎ দেখেই। মাত্র তিন মাস পরই টানা প্রমোশন পায় আলভেরকা, ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ফেরে দেশটার শীর্ষ লিগে।
অথচ এই আলভেরকারই একসময় অস্তিত্বসংকট দেখা দিয়েছিল। ২০০৫ সালে লিগা পর্তুগাল থেকে অবনমনের পর ক্লাবটা পুরোপুরি উঠেই যায়। এক বছর পর আবার পুনর্গঠিত হয়ে আঞ্চলিক লিগ থেকে ধাপে ধাপে কষ্টার্জিত এক পথে উঠে আসে। তবে ক্লাবের মালিক ভিনসিন্তিন পরিবার বাধ্য হয় এর বড় অংশের শেয়ার বিক্রি করতে। কারণ, তাদের হাতে তখন সান্তা ক্লারা নামে আরেকটা ক্লাবের মালিকানা ছিলও। আর পর্তুগালের নিয়ম বলছিল, একসঙ্গে দুটি ক্লাবের মালিক থাকা যাবে না।
ভিনিসিয়ুস অবশ্য একেবারেই হাত গোটানো এক বিনিয়োগকারী। তাঁর হয়ে ক্লাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডারের দায়িত্ব সামলান তাঁর এজেন্ট থাসিলো সোয়ারেস। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটা প্রতিবেদনে আলভেরকার স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফের্নান্দো মালতা বলেছিলেন, ‘ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা দূর থেকেই। আমরা তাঁকে বলি, ক্লাবের সবচেয়ে বিখ্যাত সমর্থক।’
তারকার আলো অবশ্য শুধু ভিনিসিয়ুসেই থামেনি। রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর সতীর্থ এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা আর মার্কিন র্যাপার ট্রাভিস স্কটও যোগাযোগ ও বিপণনের কাজে যুক্ত হয়েছেন আলভেরকার সঙ্গে।
.২০১৩ সালে ১৫ বছর বয়সী এমবাপ্পে প্রায় সই করেই ফেলেছিলেন কাঁ-তে। শেষ মুহূর্তে দল নেমে যায় নিচের স্তরে, আর তাঁর বাবা ছেলেকে নিয়ে যেতে যান মোনাকোয়। সেখান থেকেই শুরু এমবাপ্পের রূপকথা।
.এক যুগ পর, ২০২৪ সালের জুনে, সেই কাঁ-কেই কিনে নিলেন এমবাপ্পে। নিজের প্রতিষ্ঠান ইন্টারকানেক্টেড ভেঞ্চারস আর তার বিনিয়োগ শাখা কোয়ালিশন ক্যাপিটালের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার কেনেন তিনি, নিজের পকেট থেকে ঢালেন প্রায় দেড় কোটি ইউরো। ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই চুক্তি ক্লাবের কৌশলগত উন্নয়নে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, আর ফরাসি ফুটবলের ঐতিহাসিক ঠিকানাগুলোর একটা হয়ে টিকে থাকার স্বাভাবিক যে আকাঙ্ক্ষা, সেটাকেই আরও দৃঢ় করে এটা।’
তখন লিগ ২-তে খেলছিল কাঁ, শীর্ষ লিগে প্রমোশনের লড়াইয়ে ছিল রীতিমতো। কিন্তু এমবাপ্পের ছোঁয়া দলটাকে এগিয়ে নিতে পারেনি। উল্টো ২০২৪-২৫ মৌসুম ১৮তম স্থানে শেষ করে অবনমিত হয় চ্যাম্পিয়নাত ন্যাশনালে, ফ্রান্সের তৃতীয় স্তরে, গত ৪১ বছরে যা ঘটেনি কখনো।
মাদ্রিদের ব্যস্ততা আর ক্লাব সামলানো—দুটো একসঙ্গে শেষ পর্যন্ত পারেননি এমবাপ্পে। তবু গত বছরের শেষ দিকে সাহস দেখিয়েছিলেন একটা জায়গায়। সাবেক আর্সেনাল ও ফ্রান্স তারকা গায়েল ক্লিশিকে এনেছিলেন কাঁ-র নতুন প্রধান কোচ করে। ক্লিশি দলটাকে অনেকটাই স্থিতিশীল করেছেন, যদিও মে মাসে প্লে-অফের কাছাকাছি গিয়েও থেমে যেতে হয়েছে। এবারের মৌসুমে অবশ্য লিগ ২-এ ফেরা নিয়ে আশাবাদী পুরো ক্লাব। এই গ্রীষ্মেই সাবেক কাঁ ও পিএসজি মিডফিল্ডার মাতিও বোদমেকে ফুটবল পরিচালক নিয়োগের অনুমোদনও দিয়েছেন এমবাপ্পে।
.সৌদিতে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় কোন ক্লাবের.রিয়াল মাদ্রিদে ১৩ বছরের রাজকীয় অধ্যায় শেষ করার ঠিক আগে আগে, গত গ্রীষ্মেই ইংল্যান্ডের সোয়ানসি সিটির সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারী ও সহমালিক হয়ে যান লুকা মদরিচ।
সোয়ানসির মার্কিন মালিক অ্যান্ডি কোলম্যান, ব্রেট ক্র্যাভাট আর জেসন কোহেনের জন্য এ যেন বিশাল এক প্রাপ্তি। অনেক দিন ধরেই তাঁরা খুঁজছিলেন উঁচু মাপের কোনো বিনিয়োগকারী, অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রায়ান রেনল্ডস আর রব ম্যাকের হাত ধরে রেক্সহ্যামের সাফল্যের গল্প থেকে। এখন সিরি আ-তে এসি মিলানের হয়ে খেলা এই ক্রোয়েশিয়ান প্লেমেকারের সোয়ানসির সঙ্গে পরিচয় বহু পুরোনো। টটেনহামে থাকাকালে ২০১০-১১ মৌসুমে ঘরে-বাইরে দুই ম্যাচেই সোয়ানসির বিপক্ষে খেলেছিলেন।
.গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদরিচের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ফুটবলের ব্যবসায়িক দিকটা শেখার আগ্রহই বেশি কাজ করেছে বলে জানা গেছে। ক্লাবের বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে গভীরভাবে বুঝতে চেয়েছেন মদরিচ, সম্ভাব্য নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিজে থেকেই কথা বলার প্রস্তাব দিয়েছেন। আপাতত সোয়ানসি ডট কম স্টেডিয়ামে পেছনের সারিতেই আছেন তিনি, তবে যেদিন ৪০ বছর বয়সী এই তারকা বুট তুলে রাখবেন, সেদিন এই ছবিটা বদলাবে নিশ্চিতভাবেই।
.সবশেষে কিন্তু গুরুত্বে মোটেও কম নন থিবো কোর্তোয়া। ৩৪ বছর বয়সেও এখনো তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। তালিকার সবচেয়ে ব্যবসা–বুদ্ধিসম্পন্ন খেলোয়াড় বলতে হয়তো তাঁকেই বেছে নিতে হবে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিনি তিন-তিনটি ক্লাবে বিনিয়োগ করে ফেলেছেন!
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ফরাসি ক্লাব লে মার এক তারকাখচিত মালিকানা গোষ্ঠীতে, যেখানে আগে থেকেই ছিলেন নোভাক জোকোভিচ আর ফেলিপে মাসার মতো তারকা অ্যাথলেট। গনসালো ভিলারের সঙ্গে মিলে নিজেই গড়া প্রতিষ্ঠান এনএক্সটপ্লে ক্যাপিটালের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন কোর্তোয়া। এরপর একসঙ্গেই তাঁরা উদ্যাপন করেন ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো লিগ ওয়ানে ফেরা। তিন মাস পর কোর্তোয়া আর এনএক্সটপ্লে হয়ে ওঠেন সিডি এক্সত্রেমাদুরার সহমালিক, যে ক্লাব ২০২২ সাল থেকে টানা চারটি প্রমোশন পেরিয়ে উঠে এসেছে স্পেনের তৃতীয় বিভাগ লিগে।
তবে কোর্তোয়ার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রকল্পের ঠিকানা তাঁর নিজের জন্মভূমিই। ১ জুন গেংক ঘোষণা দেয়, ক্লাবের বিনিয়োগকারী হিসেবে ফিরছেন কোর্তোয়া। রিয়ালের নাম্বার ওয়ান গোলরক্ষক নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এই বেলজিয়ান জায়ান্টদের হাত ধরেই।
ক্লাবের ওয়েবসাইটে কোর্তোয়া বলেছেন, ‘সারাটা জীবন আমি শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে ছুটেছি। গেংকে এসে আমি ঠিক একই আগুন, একই উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনুভব করি। এই বিনিয়োগটা সত্যিই মনে হচ্ছে ঘরে ফেরার মতো। এই প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে আমি চাই, ক্লাবটা বেড়ে উঠুক, তাদের ক্রীড়া উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরও পোক্ত হোক। লিমবুর্খ থেকে ইউরোপের চূড়া পর্যন্ত।’
ফুটবলে বহুকাল ধরে একটা ধারণা চালু ছিল, তারকারা আসেন, খেলেন, একদিন চলে যান। ক্লাব থেকে যায় তাঁদের হাতে, যাঁরা কখনো বুট পরে ঘাসে নামেননি। তবে এতক্ষণ যাঁদের গল্প বলা হলো, তাঁরা নিয়মটা বদলাতে শুরু করেছেন। ফুটবলাররা এখন শুধু ম্যাচ জেতেন না। ক্লাব গড়েন, দর্শকও তৈরি করেন, ব্যবসার নকশাও আঁকেন। নতুন দিনের ফুটবলে এটাও হয়তো একটা বাস্তবতা।
.৫৯ বছর বয়সে গোল, নতুন রেকর্ড কাজুইউশি মিউরার