রাজধানীর উত্তরার ডিএল ফিলিং স্টেশনের সোয়া কোটি টাকা লুটের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৮ লাখ টাকা। গত চার দিনে ঢাকার সাভার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার নতুন তিনজনের নাম আবদুল হাকিম, আবদুল জলিল ও কাউসার। র্যাব জানিয়েছে, এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আবদুল হাকিম, তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন কাউসার এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন আবদুল জলিল। গ্রেপ্তারকৃত একজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন, হাতকড়া ও ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে পুরো ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার এবং আটজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার র্যাব সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র ঘটনাস্থল রেকি করে ডাকাতি সংঘটিত করে এবং লুণ্ঠিত টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।"
র্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ আগস্ট রাতে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, হাতকড়া ও ওয়্যারলেস সেটসহ আবদুল হাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সকালে কাউসার এবং গতকাল বুধবার রাতে সাভার এলাকা থেকে আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জলিলের কাছ থেকেই ছিনতাই হওয়া ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত টাকা, অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ তিন অভিযুক্তকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে, যাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এর আগে ১৪ আগস্ট ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে অস্ত্র, গুলি এবং ছিনতাই হওয়া ১২ লাখ টাকাসহ ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
গত ৯ আগস্ট সকালে উত্তরার বিমানবন্দর সড়কে ক্রাউন প্লাজার সামনে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার সময় এক কর্মচারীকে কুপিয়ে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম অজ্ঞাতপরিচয় ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ছিনতাই হওয়া টাকাগুলো ডিএল ফিলিং স্টেশনের।
অন্যদিকে, গতকাল বুধবার রাজধানীর তুরাগ থানার কামারপাড়া ফলের আড়তে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ১২ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে র্যাব। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি প্রতিদিন ফল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করত এবং অস্বীকৃতি জানালে ভ্যান, রিকশা ও কাভার্ডভ্যান আটকে ভয়ভীতি দেখাত। অভিযান চলাকালীন চাঁদা আদায়কালে তাদের আটক করা হয় এবং ১১ হাজার টাকার বেশি উদ্ধার করা হয়।