বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। একই সঙ্গে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে তাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।
আজ বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। তাঁর পক্ষে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। অভিনন্দনবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি (অলি আহমদ) আশা করি, রাষ্ট্র ও সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং ইনসাফের সুরক্ষায় দৃঢ়তা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের পক্ষে বিবৃতি পাঠান জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি সচেষ্ট থাকবেন। আমরা স্মরণ করি, ২০০১-০৬ সালের চার–দলীয় জোট সরকারের সময়ে মির্জা ফখরুল জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করছি।’