বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের (এসিআর) নম্বর অনুমোদন ছাড়াই পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পটুয়াখালীর ছয় ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব ও সহকারী কমিশনার তালুকদার মো. ইনতেজার বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ অভিযুক্তদের শাস্তির আদেশ দিয়েছেন।
শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন—পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার মুক্তা, একই উপজেলার গলাচিপা ইউনিয়নের আ ন ম মুরাদুল ইসলাম, পটুয়াখালী সদর উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মংলাতেন, বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের মো. আল কাইয়ুম, রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মো. আবু জাফর এবং দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মো. তারিকুল ইসলাম।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বছরের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার দেওয়া নম্বর অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তেও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শাস্তি হিসেবে অভিযুক্ত ৬ কর্মকর্তার ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে এই মেয়াদে তারা কোনো প্রকার পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না এবং তাদের সার্ভিস বইয়ে শাস্তির আদেশটি স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হবে।
বিভাগীয় প্রশাসনের মতে, এসিআরের নম্বর অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তন করা সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তদন্তে দেখা গেছে, এই ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, "সরকারি দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়ালে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই শাস্তি সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করারই একটি অংশ।"