জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বাঁ পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন মো. রাতুল হাসান। আজ বৃহস্পতিবার এই সাক্ষ্য প্রদান করেন তিনি।
তেজগাঁও কলেজের মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান ওই সময় প্রথম বর্ষে পড়ছিলেন। রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিনি ১২তম সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হন।
জবানবন্দিতে রাতুল বলেন, "২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর রামপুরা মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের সামনে তাঁরা আন্দোলনে যোগ দেন। তখন তাঁদের সামনে বিজিবি ও পুলিশ অবস্থান করছিল। কোনোরকম সতর্কবার্তা ছাড়াই তাঁদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে বিজিবি ও পুলিশ।"
আক্রান্ত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, তখন তিনি বেটার লাইফ হাসপাতালের দিকে দৌড় দিলে একটি গুলি তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে পেছন দিক দিয়ে ঢুকে সামনের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। সেই ক্ষতস্থানে তাঁর দেড় ইঞ্চির মতো হাড় ক্ষয় হয় এবং ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
জবানবন্দিতে রাতুল হাসান আরও উল্লেখ করেন, "২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাঁকে রিলিজ (ছাড়পত্র) দেন।"
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রাতুল ট্রাইব্যুনালে তাঁর পায়ের গুলির ক্ষতস্থান দেখান। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
ঘটনার দায়ভার নিয়ে জবানবন্দিতে রাতুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, ঘটনার দিন বিজিবির রেদোয়ান ও রাশেদ এবং পুলিশের মশিউর ও একজন এডিসি গুলি করেন। তিনি আরও জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের এই গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। যারা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা গুলি করেছেন, তাদের বিচার দাবি করেন রাতুল।
উল্লেখ্য, এই মামলায় চারজন আসামি রয়েছেন। তারা হলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবি কর্মকর্তা মো. রাফাত-বিন-আলম মুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। বর্তমানে রেদোয়ানুল ও রাফাত গ্রেপ্তার হয়ে সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন এবং রাশেদুল ও মশিউর পলাতক।