নওগাঁয় কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রী হালিমা খাতুনকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. শামীম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-০১-এর বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে মহাদেবপুর উপজেলার দোহালী কোয়ালীপাড়া গ্রামের শামীম সরদারের সাথে হালিমার বিয়ে হয়। দম্পতি ঢাকায় বসবাস করার সময় তাদের এক কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে। তবে সন্তানকে মেনে না নিয়ে স্ত্রী ও কন্যাসন্তানের ওপর মানসিক অত্যাচার ও অবহেলা শুরু করেন শামীম। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিজের গ্রামে নিয়ে আসেন তিনি। এর দুদিন পর ২৯ ডিসেম্বর নওগাঁ সদরের তিলকপুর ইউনিয়নের একটি ধানক্ষেত থেকে হালিমার রক্তাক্ত ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সেখানে মরদেহ ফেলে রেখে যান শামীম। এই ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ২০২২ সালের ১৩ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শাহরিয়ার এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. এমরান হোসেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, এই শাস্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।