বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা সঙ্গে নিয়ে স্থলপথে নেপাল অভিমুখে দুঃসাহসিক যাত্রা শুরু করেছেন তরুণ অভিযাত্রী, সাইক্লিস্ট ও সমাজসেবক বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। ‘সি টু হিমালয়াস’ নামের এই বিশেষ অভিযানে তার লক্ষ্য নেপালে পৌঁছে হিমালয়ের চারটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও দুর্গম ট্রেইল অতিক্রম করা।

কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে কুমিল্লার অবস্থান করছেন বীর কুমার। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুমিল্লা থেকে সাইকেলে ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়ে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করবেন তিনি। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পৌঁছাবেন তিনি।

নেপালে পৌঁছানোর পর শুরু হবে অভিযানের সবচেয়ে কঠিন পর্যায়। সেখানে মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (এবিসি) ও এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (ইবিসি)—এই চারটি দুর্গম ট্রেইল অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ৯০ দিনের সার্ক স্টিকার ভিসার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো অভিযান শেষ করাই এখন তার মূল চ্যালেঞ্জ।

নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “সাধারণত বাংলাদেশি অভিযাত্রীরা বিমানে নেপালে গিয়ে সেখান থেকে সাইকেল অভিযান শুরু করেন। কিন্তু আমি ব্যতিক্রমীভাবে বাংলাদেশের মাটি থেকে সাইকেলে স্থলপথ পাড়ি দিয়ে নেপালে পৌঁছে পুরো অভিযান সম্পন্ন করতে চাই।”

অভিযানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, “এই অভিযান শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণের জন্য নয়, এর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সৌন্দর্য ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাই। একই সঙ্গে দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করাও আমার অন্যতম উদ্দেশ্য।”

দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর এই যাত্রায় নেমেছেন বীর কুমার। প্রয়োজনীয় অনুমতি, ভিসা এবং প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে তাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আর্থিক সংকট ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও স্বপ্ন পূরণে অবিচল ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ সাইকেলযাত্রার পাশাপাশি নেপালের দুর্গম পাহাড়ি পথে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লক্ষ্যে তিনি করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন।

দূরপাল্লার সাইকেল অভিযানে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। এর আগে তিনি সাইকেলে ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণ করেছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি। এছাড়া টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট এবং ৬৪টি জেলা সাইকেলে পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

অভিযাত্রী ও সাইক্লিস্ট হওয়ার পাশাপাশি মানবসেবামূলক কাজেও সক্রিয় বীর কুমার। তিনি ‘কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক’ ও ‘ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা। স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এর আগেও বিভিন্ন দূরপাল্লার সাইকেল অভিযানের মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রমণ ও রোমাঞ্চপ্রিয় মানসিকতা তৈরিতে কাজ করেছেন এই তরুণ।