সারা দেশে আগামী ২২ আগস্ট থেকে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রথম ডোজের কার্যক্রম চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, অন্তঃসত্ত্বা নারী ব্যতীত ১ বছর বা তার বেশি বয়সি সব নাগরিক এই টিকা নিতে পারবেন। পুরো দেশজুড়ে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
কলেরার ঝুঁকি ও প্রতিকার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ। তবে সময়মতো চিকিৎসা না করালে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে দ্রুত জীবনহানি ঘটতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন এই রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি টিকাদানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "টিকাই একমাত্র সমাধান নয়। কলেরা প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা একা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে ঝুঁকি বিবেচনায় আমাদের একটি পরিকল্পিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।"
প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার আওতায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভ্যাক্স-ইপিআই (VaxEPI) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এর ফলে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ ও মনিটরিং সহজ হবে।
দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টিকা প্রদান করা হবে। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে।
কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়ে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই চার থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্ধারিত এলাকায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।