জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিসহ মৌলিক সামাজিক সেবাগুলোকে জলবায়ু-সহনশীল করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, "শিশু ও তরুণরাই আজ ও আগামী দিনের জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশের কারিগর। তাই জলবায়ু কর্মপরিকল্পনায় শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।"

তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শিশুদের সীসাদূষণসহ অন্যান্য পরিবেশগত দূষণ থেকে রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ‘সীসামুক্ত বাংলাদেশের জাতীয় কৌশল ও বহুবর্ষী কর্মপরিকল্পনা (২০২৬–২০৩৫)’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জিলিয়ান মেলসপ। একই সঙ্গে এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউনিসেফের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে আলোচনা করা হয় যে, জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে শিশুদের কোনো দায় না থাকলেও তারা এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ শিশু কোনো না কোনো জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৯ জন একই সঙ্গে তিন বা ততোধিক দুর্যোগঝুঁকির সম্মুখীন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও জানানো হয়।

সরকার অনুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক শিশু জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (CCRI) এবং শিশুদের জন্য জলবায়ু পরিস্থিতি বিশ্লেষণ (CLAC) প্রণয়নে মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ যৌথভাবে কাজ করবে। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো চিহ্নিত করে জলবায়ু অভিযোজনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।

এছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC 3.0) বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্ত করতে ইউনিসেফ সহযোগিতা করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সরকারি বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই এবং পরিবেশবান্ধব ও দুর্যোগসহনশীল বিদ্যালয়ের মডেল গড়ে তুলতে ইউনিসেফ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সার্বিক সহযোগিতার কথা জানানো হয়।

বৈঠকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে জলবায়ু ও পরিবেশ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, ইয়ুথ ক্লাইমেট নেগোশিয়েটরস ফেলোশিপ ও ইয়ুথ ক্লাইমেট সামিট আয়োজন এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীদের নেটওয়ার্কের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

উক্ত বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমানসহ ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।