কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী এলাকায় এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। দোকান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার চুরি করার পর অনুতপ্ত হয়ে তা ফেরত দিয়েছেন এক ব্যক্তি। সিলিন্ডারের সঙ্গে রেখে গেছেন একটি হাতে লেখা চিরকুট, যেখানে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে চরফরাদী মাদ্রাসা মোড়ের কামাল মিয়ার চায়ের দোকান থেকে একটি বড় গ্যাস সিলিন্ডারসহ কিছু মালামাল চুরি হয়। দোকানমালিক কামাল মিয়া বিষয়টি স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনকে জানান। চুরির ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং সন্দেহের বশে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উঠতে থাকে।

এরই মধ্যে এক রাতে চরফরাদী মাদ্রাসায় একটি গ্যাস সিলিন্ডার ও একটি চিরকুট পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাদ্রাসার এক শিক্ষক বিষয়টি দোকানদার কামাল মিয়াকে অবহিত করেন।

উদ্ধার হওয়া চিরকুটে ওই ব্যক্তি লিখেছেন, “এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সর্বপ্রথম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কোনো পেশাদার চোর না, ভুল করে চুরি করে ফেলেছি। কাজটি করে আমি অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে এমন হীন কর্মকাণ্ডে জড়াব না—এই অঙ্গীকার করছি।”

চিরকুটে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই চুরির বিষয় নিয়ে এলাকার শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন লোককে দোষারোপ করে বিশৃঙ্খলা তৈরির সম্ভাবনা দেখে জিনিসটি ফেরত দিলাম। দয়া করে জিনিসটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেবেন।”

সিলিন্ডারটি মাদ্রাসায় রেখে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লিখেছেন, “জিনিসটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেক ভেবেচিন্তে দেখলাম, প্রকৃত মালিককে কোন কোন উপায়ে ফেরত দেওয়া যায়। অন্য কোনো উপায়ান্তর না দেখে মাদ্রাসায় রেখে গেলাম। জিনিসটি ঠাকুরবাড়ির চা-দোকানদার কামালের।” সবশেষে ক্ষমার আকুতি জানিয়ে তিনি চিরকুটটি ছিঁড়ে ফেলার অনুরোধ করেন।

নিজের মালামাল ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে চা-দোকানি কামাল মিয়া বলেন, “সিলিন্ডার চুরি হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয়দের জানিয়েছিলাম। পরে মাদ্রাসায় সিলিন্ডার ও চিরকুট পাওয়ার খবর পাই। মালামাল ফেরত পেয়ে খুব স্বস্তি পাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চুরি একটি অপরাধ হলেও অপরাধ স্বীকার করে জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার এই ঘটনাটি সত্যিই ব্যতিক্রমী। ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে তারা প্রত্যাশা করেন।