ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বিরিয়ানি ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কমলা বেগম (৩০) নামের এক বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন কিশোরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগীর স্বামী টুকু মিয়ার করা মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) বিকেল ৫টার দিকে ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই রাতেই স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই পক্ষের কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করলে তাদের প্রত্যেককে ১০টি করে বেত্রাঘাত/জুতার বাড়ি এবং ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অভিযুক্ত কিশোররা হলো— স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি আনোয়ারের ছেলে আরমান, মনিরের ছেলে শাকিব এবং অটোরিকশাচালক ইব্রাহিমের ছেলে বাদশা। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

সালিশের মাধ্যমে এমন অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী দিনমজুর টুকু মিয়া জানান, অভিযুক্ত কিশোরেরা তার বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে বিরিয়ানি ও টাকার লোভ দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালায়। ভুক্তভোগী নারী বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানালে তিনি স্থানীয় মাতব্বরদের অবহিত করেন। পরে রাতে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করলে জরিমানা করা হয়। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তিনি প্রাথমিকভাবে থানায় যাননি বলে জানান।

পরবর্তীতে সামাজিক চাপ ও অসন্তোষের মুখে মঙ্গলবার সকালে টুকু মিয়া ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, "বাক-প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।"