গাম্বিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), কৃষি, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে গাম্বিয়ার অনাবাসী হাইকমিশনার মোস্তফা জাওয়ারার এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সাক্ষাৎকালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা গণহত্যা মামলাটি সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নেওয়ায় গাম্বিয়া সরকারের প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "মামলাটির সফল নিষ্পত্তি রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থা, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), কমনওয়েলথ এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনসহ (ন্যাম) বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার পারস্পরিক সম্পৃক্ততায় সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই প্রতিনিধি।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। গাম্বিয়ার হাইকমিশনারকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

অন্যদিকে, গাম্বিয়ার হাইকমিশনার দেশটির ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিস অবকাঠামো বাস্তবায়নে বাংলাদেশি আইসিটি বিশেষজ্ঞদের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পরামর্শের (Political Consultation) চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষের গভীর আগ্রহ প্রকাশ পায়।