আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার সাক্ষী। আজ সোমবার চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এই চিঠি দিয়েছেন জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি রেজাউল করিম। পরবর্তীতে তিনি চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে রেজাউল করিম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় কর্মী এবং ট্রাইব্যুনালে চলমান চট্টগ্রামে সংঘটিত জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার একজন তালিকাভুক্ত সাক্ষী। তাঁর অভিযোগ, এই মামলার আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত, প্রশ্নবিদ্ধ ও বাধাগ্রস্ত করার হীন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন।

জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের নেতা রেজাউল করিম আরও অভিযোগ করেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি প্রদানে বিরত রাখার অসৎ উদ্দেশ্যে আসামিপক্ষ প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি বিদেশ থেকে এই মামলার সাক্ষী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের টেলিফোনের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

চিঠিতে হুমকি পাওয়া পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হুমকিদাতাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনিসহ মামলার সব সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতাদের সর্বোচ্চ আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া চিঠিতে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, প্রমাণ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি থাকা সত্ত্বেও অনৈতিক লবিংয়ের কারণে এই মামলার প্রাথমিক তালিকা থেকে একজন আসামির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

হুমকির এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে আসামি ফজলে করিমের আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।