ফরিদপুরের মধুখালীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে জামাল মোল্লা (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যাকে পরবর্তীতে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল মোল্লা মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটি রাজবাড়ী সদর থানার বানিয়াবহু হুগলাডাঙ্গী গ্রামের মো. সৈয়দ মণ্ডলের কন্যা।

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ৩ মে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের এক দর্জির বাড়িতে নতুন পোশাক আনতে যায়। সেখানে দর্জিকে না পেয়ে শিশুটি আসামির বাড়ির উঠানে তার নাতনিসহ অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে জামাল মোল্লা শিশুটিকে মিষ্টির প্রলোভন বা কৌশলে তার বসতঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান এবং মুখ চেপে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

শিশুটি আসামির হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করে পালানোর চেষ্টা করার সময় ঘরের সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এবং আসামি কৌশলে আত্মগোপন করলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানির পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত জামাল মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী বলেন, "সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত আসামিকে সাজা দিয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"