চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ফসলের পোকা দমনে জমিতে বিষমিশ্রিত ধান ছিটিয়ে রাখায় বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির শতাধিক পাখির মৃত্যু হয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করার দায়ে সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেছে প্রশাসন।

গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে দর্শনা থানার মদনা গ্রামের একটি মাঠে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিকারক পোকা দমনের উদ্দেশ্যে ওই জমিতে বিষমিশ্রিত ধান ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল। রোববার বিকেলে দেশীয় নানা প্রজাতির পাখি সেই ধান খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে শতাধিক পাখির মৃত্যু হয়। মৃত পাখিদের মধ্যে ঘুঘু ও শালিক অন্যতম। মাঠে বিপুলসংখ্যক মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন। এরপর জমির মালিক রাজন ও তার বাবা আতিয়ার রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জমিতে বিষমিশ্রিত ধান ছিটানোর কথা স্বীকার করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ পর্যালোচনা করে জমির মালিককে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মৃত পাখিগুলোকে মাটিচাপা দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে ফসল সুরক্ষায় অনিয়ন্ত্রিত বিষপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে স্থানীয় কৃষকদের সচেতন করা হয়।

জমির মালিক রাজন বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, "মাঠে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনের জন্য তার বাবা ওই জমিতে বিষমিশ্রিত কিছু ধান ছিটিয়ে রেখেছিলেন। ওই বিষমিশ্রিত ধান খেয়েই বিপুলসংখ্যক পাখির মৃত্যু হয়েছে।"

এই বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম বলেন, "ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশক ব্যবহারে নির্ধারিত পদ্ধতি ও মাত্রা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। খোলা অবস্থায় জমিতে বিষমিশ্রিত খাবার ছিটিয়ে রাখলে কেবল বন্য পাখিই নয়, গৃহপালিত পশুপাখি এবং মানবস্বাস্থ্যও চরম ঝুঁকিতে পড়ে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কৃষক ও জমির মালিকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।"

উল্লেখ্য, দেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী তপশিলভুক্ত বা সংরক্ষিত যে কোনো বন্যপ্রাণী ও পাখি হত্যা বা নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে দর্শনার এই ঘটনাটি কৃষিজমিতে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ বালাই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এলো।