ঢাকার ধামরাই উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ দুই বছর ধরে সরকারি ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর ফলে প্রসূতি সেবা, স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) এবং কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং তীব্র জনবল সংকটের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া গেলেও সরকারি ওষুধের অভাবে শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। চাহিদার তুলনায় মাঝে মাঝে সামান্য ওষুধ এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওষুধের অভাবের পাশাপাশি চৌহাট, সানোড়া ও কুল্লা—এই তিনটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ছাদের একাংশ ভেঙে পড়া এবং দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ার কারণে সেখানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি জমে যায়। নতুন ভবনের নথিপত্র চূড়ান্ত হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বেলিশ্বর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ নান্নার ও কুশুরা ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় রয়েছে।

অবকাঠামো ও ওষুধের পাশাপাশি এই কেন্দ্রগুলোতে প্রকট জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত ১৫৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২৭ জন। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে; নয়টি কেন্দ্রের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৪ জন দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও এই সংকটের কথা স্বীকার করেছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম নামে এক নারী জানান, বাচ্চাদের ঠান্ডা-জ্বরের চিকিৎসার জন্য তিনি এসেছিলেন। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিলেও কোনো ওষুধ পাননি। তিনি আফসোস করে বলেন, “আমরা সরকারি ওষুধের আশায় এখানে আসি। সংসারের যে খরচ, তাতে বাইর থেকে ওষুধ কেনার সামর্থ্য থাকে না।”

সেবাগ্রহীতা আসাদ অভিযোগ করে বলেন, “শুধু ওষুধ সংকটই নয়, চিকিৎসকরাও সময়মতো আসেন না, আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। আর ওষুধ তো প্রায় দুই বছর ধরে পাই না।”

এই বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাসেল বলেন, “ওষুধের পাশাপাশি আমাদের জনবল সংকটও রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই বরাদ্দ ও জনবল সংকটের সমাধান হবে।”