টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পৌর এলাকার পাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘকাল ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৫ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৩০ বছর পুরোনো এই ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে এবং প্রতিনিয়ত ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। শিক্ষকদের মতে, ইতিপূর্বে কয়েকবার ছাদের অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
ভবনের এই নাজুক অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মনে সারাক্ষণ ধসে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা জানান, কখন মাথার ওপর ছাদ বা দেয়ালের অংশ ভেঙে পড়ে—সেই ভয়ে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না তারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ বলেন, “বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে খুব ভয় লাগে, কখন যে ছাদ ধসে পড়ে। আমরা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছি। দ্রুত ভবনটি সংস্কার করে একটি নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ চাই।”
আরেক শিক্ষার্থী লাকি বলেন, “আমরা পড়াশোনা করতে স্কুলে আসি, কিন্তু দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সরকারের উচিত দ্রুত নতুন ভবন তৈরি করে দেওয়া।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর জানান, চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই বাধ্য হয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে অনেক সময় খোলা মাঠে ক্লাস নিতে হয়। তিনি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় অভিভাবক আব্দুল কাদের বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পুরোনো ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।” বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এই বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, ইতিমধ্যেই উপজেলার ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জরাজীর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে পাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও রয়েছে। জরাজীর্ণ এসব বিদ্যালয়ের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।