মুনাফার স্বার্থে শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়। শ্রমিক নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে জাহাজভাঙা শিল্পে ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক হত্যার মতো ঘটনার খবর আসলেও এর বিচার কার্যকরভাবে হয় না। সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন বিভিন্ন বক্তা।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। যৌথ আয়োজক হিসেবে ছিল শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স ও শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম।

বক্তারা জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা আহত শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি অবহেলাজনিত শ্রমিক মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে। বিগত গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও তাঁদের ভূমিকা ছিল অসামান্য। অথচ তাঁদের জীবনের মূল্য ঠিকমতো দেওয়া হয় না। রাষ্ট্র তাঁদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয় না।’

শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পে হতাহতের কারণ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিক মৃত্যুর তদন্তে কমিটি গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে তিনি তুল ধরবেন।

জাহাজভাঙা শিল্পে মৃত্যুসহ দেশে ‘শ্রমিক হত্যার’ সব কটি ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। তিনি বলেন, কদিন পরপর শ্রমিক হত্যার খবর আসে। অথচ এসব হত্যার কোনো বিচার হয় না। কোনো তদন্ত হয় না। এমন অন্যায় চলতে দেওয়া যায় না। তাই বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ চলবে।

জাহাজমালিকদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের?—না, তিনি নয়; বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন। তিনি বলেন, শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় জাহাজমালিকদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তাঁর মতে, এই শিল্প যাঁরা পর্যবেক্ষণের সঙ্গে জড়িত, তাঁদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন পরপরই আমরা এমন ঘটনা শুনি। অথচ এসব ঘটনার কোনোটির বিচার হয় না। আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশ যাতে শেষবারের সমাবেশ হয়।’

সমাবেশ থেকে জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে ১৩টি দাবি জানানো হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, স্বচ্ছ তদন্তে প্রকৃত কারণ প্রকাশ, দায়ী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেওয়া এবং আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।