ফুটবল সমর্থক বিশেষ করে ইউরোপের ফুটবল সংস্কৃতিকে ক্লাবের স্কার্ফ আবেগ ও পরিচয়ের প্রতীক। সেই স্কার্ফকেই এবার স্টেডিয়ামে প্রবেশের টিকিট ও অর্থ পরিশোধের মাধ্যম বানিয়েছে ফ্রান্সের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব দিজোঁ এফসিও। দেশটির ফুটবলে এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম।

শুক্রবার ২০২৬-২৭ মৌসুমে নিজেদের প্রথম ঘরের ম্যাচে পো এফসির মুখোমুখি হয় দিজোঁ। ম্যাচটি ১-০ গোলে হারলেও আলোচনায় এসেছে ক্লাবটির নতুন প্রযুক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সমর্থকেরা টিকিটের বদলে স্কার্ফ স্ক্যান করে স্তাদ গাস্তোঁ জেরারে প্রবেশ করছেন।

দিজোঁর লাল রঙের বিশেষ স্কার্ফে যুক্ত করা হয়েছে এনএফসি চিপ। কয়েক সেন্টিমিটার দূরত্ব থেকে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে এই তারহীন প্রযুক্তি। যোগাযোগবিহীন কার্ডে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও একই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।

স্কার্ফের ছোট বাদামি রঙের একটি প্যাচের নিচে চিপটি বসানো হয়েছে। প্যাচে রয়েছে দিজোঁ শহর ও ক্লাবের প্রতীক পেঁচার নকশা। স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে সেই অংশটি স্ক্যানারের সামনে ধরলেই খুলে যাচ্ছে ঘূর্ণি দরজা।

মৌসুম টিকিট কেনার পর সমর্থকদের ই-মেইলে একটি কিউআর কোড পাঠানো হয়। সেটি দেখিয়ে নির্ধারিত স্কার্ফ সংগ্রহের পাশাপাশি অনলাইন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। এরপর স্কার্ফটি দিয়ে শুধু স্টেডিয়ামে প্রবেশ নয়, ভেতরের খাবার ও পানীয়ের দোকানে অর্থ পরিশোধও করা যাবে।

𝗟𝗲𝘀 𝗲́𝗰𝗵𝗮𝗿𝗽𝗲𝘀 𝗰𝗼𝗻𝗻𝗲𝗰𝘁𝗲́𝗲𝘀, 𝘂𝗻 𝗺𝗼𝘆𝗲𝗻 𝗿𝗮𝗽𝗶𝗱𝗲 𝗲𝘁 𝗽𝗿𝗶𝘃𝗶𝗹𝗲́𝗴𝗶𝗲́ 𝗱𝗲 𝗿𝗲𝗻𝘁𝗿𝗲𝗿 𝗮𝘂 𝘀𝘁𝗮𝗱𝗲 🧣 #DFCOPAU pic.twitter.com/yi4Io7Musq — Dijon FCO (@DFCO_Officiel) August 14, 2026

𝗟𝗲𝘀 𝗲́𝗰𝗵𝗮𝗿𝗽𝗲𝘀 𝗰𝗼𝗻𝗻𝗲𝗰𝘁𝗲́𝗲𝘀, 𝘂𝗻 𝗺𝗼𝘆𝗲𝗻 𝗿𝗮𝗽𝗶𝗱𝗲 𝗲𝘁 𝗽𝗿𝗶𝘃𝗶𝗹𝗲́𝗴𝗶𝗲́ 𝗱𝗲 𝗿𝗲𝗻𝘁𝗿𝗲𝗿 𝗮𝘂 𝘀𝘁𝗮𝗱𝗲 🧣 #DFCOPAU pic.twitter.com/yi4Io7Musq

ক্লাবটি জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে সমর্থকদের জন্য স্কার্ফই হবে স্টেডিয়ামে প্রবেশের প্রধান মাধ্যম। দিজোঁর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমর্থকদের ম্যাচ’ডে অভিজ্ঞতা আধুনিক করার পাশাপাশি গ্যালারিতে ক্লাবের পরিচয় আরও শক্তিশালী করতে চায় দিজোঁ।’

টিকিট ও অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান উইজইভেন্টের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দিজোঁর সভাপতি পিয়ের-অঁরি দেবালোঁ একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা।

দেবালোঁর ভাষায়, এই স্কার্ফ হবে ‘সমর্থকদের পরিচয় ও গর্বের প্রতীক, নিরাপত্তা ফটক পার হওয়ার টিকিট এবং স্টেডিয়ামে খাবার-পানীয় কেনার ডিজিটাল মানিব্যাগ।’

ফ্রান্সে এমন উদ্যোগ প্রথম হলেও এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে স্কার্ফে টিকিট যুক্ত করেছিল জার্মান ক্লাব এফসি কোলন। ২০২২ সালে এসি মিলানের বিপক্ষে একটি প্রাক-মৌসুম ম্যাচে এক হাজার সমর্থক এনএফসি চিপযুক্ত স্কার্ফ ব্যবহার করেছিলেন।

পরে সুইস ক্লাব এফসি সেন্ট গ্যালেন স্থায়ীভাবে একই ব্যবস্থা চালু করে। তাদের স্কার্ফ দিয়ে ম্যাচে উপস্থিতি ও ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য পয়েন্টও সংগ্রহ করা যায়। মৌসুম শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া সমর্থককে পরের মৌসুমের টিকিট উপহার দেয় ক্লাবটি।

দিজোঁর উদ্যোগে তাই ফুটবলের পুরোনো সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তি মিলেছে একই সুতোয়। যে স্কার্ফ এত দিন ছিল শুধু সমর্থনের প্রতীক, সেটিই এখন স্টেডিয়ামের দরজা খোলার চাবি।