চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় কাভার্ডভ্যান চালক মো. সজিবকে (২৭) হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি each আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক মো. তাজউল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস. এম. কাউসার সাগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. নুরুল আমিন, মো. শাহজাহান এবং মো. নুরুল আলম টুটুল।

মামলার নথি ও এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর মালামাল নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন নোয়াখালীর চাটখিল থানার জিনপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সজিব। তিনি পেশায় একজন কাভার্ডভ্যান চালক ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর দুপুরে পাহাড়তলী থানাধীন টোল রোডের পূর্ব পাশে শিল্প পুলিশের অধিগ্রহণকৃত জমির পশ্চিম পাশে সেকান্দরের কৃষি জমি থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের ভাই ইকবাল হোসেন রবিউল বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত মো. নুরুল আমিন ও মো. শাহজাহান গ্রেপ্তার হন। তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সজিবকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার মোট ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এই রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসেকটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিল্লাত। বিচারকার্যে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এস. এম. কাউসার সাগর।

রায়ের আদেশে জানানো হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মো. নুরুল আমিন ও মো. শাহজাহান বর্তমানে পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আসামি মো. নুরুল আলম টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।