রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে যারা মারা গেছেন, তাদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পান করেননি। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর একটি যৌথ গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।

চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ জন শিশুর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণাটি এখনো চলমান রয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এক অবহিতকরণ সভায় এই ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী।

গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান। প্রবন্ধে জানানো হয়, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। এছাড়া ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি। অপুষ্টির বিষয়টিও এখানে প্রকট; দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল, যার মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টির শিকার।

টিকা ও সংক্রমণের সম্পর্ক বিশ্লেষণে গবেষকেরা ৩৪১ জন শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন। দেখা যায়, যাদের বয়স ৯ মাসের কম হওয়ায় নিয়মিত টিকা পাওয়ার সময় হয়নি, এমন ১৪৬ শিশুর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের (১৪২ জন) হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, টিকার বয়স হওয়া সত্ত্বেও টিকা না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ৯৭ শতাংশের (১২২ জন) শরীরে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ জনের মধ্যে ৪৪ জন এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পাওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশই আক্রান্ত হচ্ছে—বিষয়টি তেমন নয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন রোগীদের ক্ষেত্রেই এই হার দেখা গেছে। টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণের পেছনে অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া, অপুষ্টি বা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে, যা নিয়ে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানের প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

ভাইরাস বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা শনাক্ত করেছেন যে, আক্রান্তদের শরীরে বিদ্যমান সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার অন্তর্ভুক্ত, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের বি৩ ভাইরাসের অনুরূপ। এছাড়া ভাইরাসের এইচ (H) প্রোটিনের এপিটোপ অঞ্চলে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশন চিহ্নিত করেছেন তারা।