দেশের অন্যান্য জেলার মতো অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি নেই উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার ফলে বর্তমানে এই জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। জেলাটিতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (পিইবি) বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে থাকে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় অবস্থিত ৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।
নেসকো সূত্রে জানা গেছে, জেলায় দৈনিক পিক আওয়ারে ২৫ দশমিক ২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৩ থেকে ২৪ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, অফ-পিক আওয়ারে ১৪ দশমিক ২ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হচ্ছে।
একইভাবে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (পল্লী বিদ্যুৎ) দৈনিক পিক আওয়ারে ৪৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪০ থেকে ৪১ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। অফ-পিক আওয়ারে ২৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পঞ্চগড় শহরের লন্ড্রি ব্যবসায়ী আইবুল ইসলাম বলেন, "পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক। আমরা সময়মতো গ্রাহকের কাপড় ইস্ত্রি করতে পারছি। দেশের অন্য জেলার মতো আমাদের এখানে লোডশেডিং না থাকায় আমরা শান্তিতে কাজ করে খেতে পারছি।"
জেলা শহরের বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, "দিনে ২০ থেকে ২১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বাকি অল্প কিছু সময় বিদ্যুৎ না থাকাটা স্বাভাবিক। বিশেষ করে ৮ মেগাওয়াটের সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পঞ্চগড়বাসীকে বড় স্বস্তি দিচ্ছে। সরকার যদি এখানে আরও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলে, তবে জেলাবাসী আরও বেশি উপকৃত হবে।"
নেসকো পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, "৮ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার সিস্টেম জেলাবাসীকে অনেকটা স্বস্তি দিচ্ছে। সম্প্রতি তীব্র গরমের সময় সোলার প্ল্যান্ট থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে এই খাত থেকেই জেলার মোট চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।"
পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম বলেন, "জাতীয় গ্রিড থেকে আমরা যে পরিমাণ বরাদ্দ পাই, তা সুষমভাবে গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করছি। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো লোডশেডিং নেই। সামনে শীতের মৌসুম আসছে, আশা করছি তখন লোডশেডিং একেবারেই থাকবে না এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।"