জামালপুর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দৈনিক ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মেগাওয়াট ঘাটতি মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এই সংকটের ফলে জামালপুরের ৭টি উপজেলাসহ শেরপুর, কুড়িগ্রামের রৌমারী-রাজীবপুর এবং সিরাজগঞ্জের অংশবিশেষ মিলিয়ে মোট ১৮টি উপজেলার প্রায় ৮ লাখ গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ভ্যাপসা গরমে দিন কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের জন্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে এবং দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেচকাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতাধীন সাড়ে ৮ লাখ গ্রাহকের জন্য বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট, যা চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই অপূর্ণ রেখে দিচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, ১৮টি উপজেলার প্রতিটিতে গড়ে মাত্র ৩ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এই ঘাটতি সামলাতে বাধ্য হয়েই এলাকাগুলোতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটে জনদুর্ভোগের চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয়দের বক্তব্যে। ইসলামপুরের বাসিন্দা শান্ত ফারাজি বলেন, "দিনে কাজ করা যাচ্ছে না, রাতে ঘুম নেই। বিদ্যুৎ এলেও ক্ষণে ক্ষণে চলে যায়।"

মাদারগঞ্জের গৃহিণী সালমা খাতুন জানান, "বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।"

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ওয়েল্ডিং, চালকল, প্রিন্টিং প্রেস ও ফার্নিচার কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইসলামপুর বাজারের ব্যবসায়ী হৃদয় বলেন, "বিদ্যুৎ না থাকলে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হয়। এতে খরচ বাড়লেও আয় কমে গেছে।"

বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, "চাহিদা ১৭০ মেগাওয়াট হলেও মিলছে মাত্র ৬০-৭০ মেগাওয়াট। গ্যাসসংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এবং রাতে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লেই কেবল এই ভোগান্তি কমবে।"