কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গ্রাম্য সালিশের নামে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বলাকিয়া গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগ কেন্দ্র করে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে ওই বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি সামনে আসে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, গ্রামের অনেক মানুষের উপস্থিতিতে এক নারীর চুলের খোঁপা ধরে জুতা দিয়ে পেটাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চারিপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামে এক সবজি বিক্রেতার সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন। এরপর সোমবার বিকেলে বলাকিয়া গ্রামে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বসে। সেখানে নারী ও অভিযুক্ত পুরুষ দুজনেরই শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত পুরুষকে কী শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় ওই নারী ও তার পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন দাবি করেন, ওই নারী প্রবাসী স্বামীর সংসারে থেকেও পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন এবং গভীর রাতে স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। তিনি আরও জানান, পরদিন সালিশে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাদের রক্ষা করতেই স্থানীয় মুরুব্বিদের পরামর্শে ওই ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাটি পুলিশের নজরে এসেছে। কোনো নারীকে এভাবে হেনস্তা করার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।