বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হারের ধাক্কা সামলানোর আগেই নতুন বিপদের মুখে অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে ধীর ওভারগতির কারণে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চার পয়েন্ট হারাতে পারে প্যাট কামিন্সের দল। এমনটি হলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানও হারাবে তারা।
রোববার শেষ হওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হলে ৫৭ রানের লক্ষ্য এক উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাচের পর অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বোলিং করার সময় নির্ধারিত ওভারগতির চেয়ে চার ওভার পিছিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচ রেফারির চূড়ান্ত হিসাবের আগে ঘাটতির সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত নয়।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টে একটি দলকে ঘণ্টায় গড়ে ১৫ ওভার বোলিং করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যত ওভার কম করা হবে, প্রতিটির জন্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এক পয়েন্ট কাটা যায়। একই সঙ্গে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়।
চার ওভারের ঘাটতি প্রমাণিত হলে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যেক ক্রিকেটারের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ কাটা যেতে পারে। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ধরে প্রত্যেকের সম্ভাব্য জরিমানা হবে চার হাজার ডলার। পুরো দলের ক্ষেত্রে অঙ্কটি দাঁড়াবে ৪৪ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার।
ডারউইন টেস্টের পর নয় ম্যাচে ৮৪ পয়েন্ট এবং ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। চার পয়েন্ট কাটা হলে তাদের সংগ্রহ নেমে আসবে ৮০-তে এবং পয়েন্টের হার হবে ৭৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট ও ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছে। বাংলাদেশের ওভারগতিও ম্যাচের এক পর্যায়ে নির্ধারিত মানের নিচে ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভার এবং দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৪৮ দশমিক ১ ওভারে অলআউট হওয়ায় আইসিসির বিশেষ ছাড় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কথা।
ম্যাচ রেফারি অতিরিক্ত বিরতি, খেলোয়াড়ের চিকিৎসা, উইকেট পতন এবং ডারউইনের প্রচণ্ড গরমের মতো বিষয়গুলো হিসাবের মধ্যে নেবেন। তাই আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার শাস্তি কিংবা পয়েন্ট কর্তন নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশের কাছে হারের পর কামিন্স স্বীকার করেছেন, ‘সব বিভাগেই ওরা আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। ওরা ছিল ধৈর্যশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।’
ধীর ওভারগতির শাস্তি অস্ট্রেলিয়ার জন্য পুরোনো দুঃস্বপ্নও। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে চার পয়েন্ট কাটা যাওয়ায় মাত্র শূন্য দশমিক আট শতাংশ ব্যবধানে ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারেনি তারা।