রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ির মহারানি হেমন্ত কুমারীর ব্যবহৃত একটি রাজ পালঙ্ক, একটি খাট ও ড্রেসিং টেবিলের অংশবিশেষ ও তিনটি ঝাড়বাড়ি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার দুপুরে তিনটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রত্নসম্পদগুলো জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো পুঠিয়া রাজবাড়ির জাদুঘরে রাখা হয়েছে।
রাজ পালঙ্কটি নিজের দখলে রেখেছিলেন রাজবাড়ির ১০০ একরের মধ্যে থাকা গোবিন্দ সাগরের পাড়ের বাসিন্দা মৎস্যচাষি ইকবালুল বাশার (৬৫)। তিনি এই দিঘির পাড়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়ি থেকে সিঁড়ি নেমে গেছে দিঘির পানিতে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দিঘি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেছেন। দিঘির চারপাশে অনেক প্রাচীন ঘাট থাকলেও ইকবালুল বাশারের ঘাটটি নতুন। এ নিয়ে ৬ মে মুক্তকণ্ঠতে ‘পুঠিয়া রাজবাড়ির পালঙ্কে ঘুমান মৎস্যচাষি বাশার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
পালঙ্কের স্ট্যান্ডগুলো এখন নেই। তবে কোথায় কীভাবে লাগানো ছিল—সেই চিহ্ন আছে। পালঙ্কটি কলকাতার কোন কোম্পানি নির্মাণ করেছিল, একটা ধাতব পাতে তা লেখা ছিল। ইকবালুল বাশার মুক্তকণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘এই পালঙ্কের প্রত্যেকটি অঙ্গ সেই প্রাচীনকাল থেকে অবিকল রয়েছে। তিনি শুধু আগের অ্যান্টিক রং পরিবর্তন করেছেন। আর খাটের পাশিগুলো পায়খরের সঙ্গে যোগ করার সিস্টেমটা তিনি পরিবর্তন করেছেন। সেখানে এখন আধুনিক পদ্ধতির লোহার রড ঢুকিয়ে দিয়েছেন।’
গত মে মাসেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে থাকা রাজপরিবারের দারোয়ানের বাড়ি ভাঙা হয়। বাড়িটিতে বর্তমানে পুঠিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম আছেন। বাড়ি ভাঙার সময় ঐতিহ্যবাহী একটি ড্রেসিং টেবিল সরিয়ে নিতে দেখেছিলেন স্থানীয় লোকজন। আজ রোববার তাঁর বাড়ি থেকে রাজবাড়ির ভাঙা একটি ড্রেসিং টেবিল ও খাটের অংশবিশেষ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া অসীম কুমার ঘোষ নামের আরেকজনের বাড়ি থেকে রাজবাড়ির তিনটি ঝাড়বাতি জব্দ করা হয়।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা উদ্ধার অভিযানে গিয়েছিলেন। ইকবালুল বাশারকে বুঝিয়ে পালঙ্কটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঝাড়বাতি উদ্ধারের সময় অসীম কুমার ঘোষ জানান, তিনি রাজবাড়ির স্মৃতি হিসেবে এগুলো রেখে দিয়েছিলেন। পরে তাঁকেও বুঝিয়ে বলা হয়। তিনি বলেন, ‘এগুলোর রং নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। অ্যান্টিক রং করে তারপর ডিসপ্লেতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’