কুকুরকে পুকুরে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার জেরে নোয়াখালীর মাইজদী শহরে তিন যুবককে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ওই ঘটনায় নিহত হন নোয়াখালী সরকারি কলেজের ছাত্র ফজলে হুদা (২২), মো. ওয়াসিম (২৪) ও মো. ইয়াছিন (২৩)। ১০ বছর পর আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

রায়ে আদালত তিন খুনের ঘটনায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মামলার অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের লোকজনের দাবি, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আজ রোববার নোয়াখালীর বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত কৌঁসুলি মো. বরকত উল্যাহ রায়ের বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) ও মো. সৌরভ (২৭)। তাঁদের প্রত্যেককে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনজনই পলাতক।

আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ফিরোজ মাহমুদ (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ (৪৫)। তাঁদের মধ্যে ফিরোজ মাহমুদ কারাগারে রয়েছেন। বাকি দুজন পলাতক। প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার অপর দুই আসামি ফয়সাল মাহমুদ রাব্বী ও মো. মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের খালাস দেন।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে মাইজদী বাজার এলাকায় নোয়াখালী সরকারি পুরোনো কলেজ-সংলগ্ন পুকুরে একটি কুকুরকে গোসল করান অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সৌরভ। এ নিয়ে আনোয়ার হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে সৌরভের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় সালিসে বসার কথা ছিল।

সন্ধ্যা সাতটার দিকে আনোয়ার হোসেনের তিন বন্ধু ফজলে হুদা, মো. ওয়াসিম ও মো. ইয়াছিন নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরোনো ক্যাম্পাসের পূর্ব পাশের ফটকে যান। সেখানে সৌরভের পক্ষের লোকজন তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই ফজলে হুদা মারা যান। গুলিবিদ্ধ ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরা মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত ফজলে হুদার মা কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরে আলম ২০১৭ সালের ৩১ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।