রাজশাহীতে উৎপাদিত মাছ সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। এই লক্ষ্য অর্জনে রাজশাহী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভূমিমন্ত্রী রাজশাহী কালেক্টরেট পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এরপর জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, "মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে মৎস্য খাত আরও সম্প্রসারিত হয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।"

তিনি আরও জানান, রাজশাহীর আশপাশের খাল-বিলগুলোকে মাছ চাষের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে স্থানীয় কৃষক ও চাষিরা মানসম্মত মাছ উৎপাদন করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারেন। এ লক্ষ্যে দেশীয় পদ্ধতিতে নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য চাষিদের আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, "ভবিষ্যতে বিশ্বে মিঠা পানির গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। জ্বালানি তেলের চেয়েও বিশুদ্ধ পানির মূল্য অনেক বেশি হতে পারে।"

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পানির উৎস নিয়ে বিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের বিপুল মিঠা পানির সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষার পাশাপাশি মৎস্য খাতের মতো সম্ভাবনাময় পেশায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আনম ড. বজলুর রশিদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।