যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। ১৩ আগস্ট রাত ৮টা ৭ মিনিটে তাঁর প্রয়াণ ঘটে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৯৫২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বারে জন্মগ্রহণ করা অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে উপাচার্য বলেন, "আ ব ম ফারুক একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও গবেষক ছিলেন। জনস্বাস্থ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স ও খাদ্যনিরাপত্তা–বিষয়ক গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।"
অধ্যাপক ফারুকের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগ। আজ দুপুরে বিভাগের চেয়ারম্যান শিমুল হালদার মুক্তকণ্ঠকে জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শ্রদ্ধানিবেদনের জন্য মরদেহ ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগে আনা হয়। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে মরদেহ তাঁর বাসায় নেওয়া হবে এবং বাদ আসর রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, "জনস্বাস্থ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে আ ব ম ফারুকের গবেষণা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। শিক্ষা, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য ও ফার্মেসি শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যসেবা অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
দীর্ঘ কর্মজীবনে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ফার্মেসি ও ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান, ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ফারুক জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬ প্রণয়ন-সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়কও ছিলেন। ২০১৯ সালে অধ্যাপক পদে অবসর গ্রহণ করা এই প্রথিতযশা শিক্ষকের মৃত্যুতে ফার্মাসিস্ট, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।