কিশোরগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাটে ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, "বর্তমানে দেশের জনগণ বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন, সেটা অতীতের স্বৈরাচার সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে।" তবে এই সংকট নিরসনে বিএনপি কাজ করছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী অধিবেশনে ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান হবে। এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, এই সুযোগে কিছু লোক রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রতিরোধ করতে হবে এবং তাদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া যাবে না।
জনগণের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, "এই দেশের মালিক জনগণ, কাজেই এ দেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।"
কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পদক্ষেপ হিসেবে তিনি খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তারেক রহমান জানান, এই উদ্যোগের ফলে কৃষকরা পানির সুবিধা পাচ্ছেন এবং মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে এবং তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া এক কোটি ২০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুলের পোশাক ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত স্বৈরাচার সরকার লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে দেশটিকে ধ্বংস করেছে, যা পুনর্গঠনের কাজ বর্তমানে সরকার চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীনসহ উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদীতে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এছাড়া বিকেল ৪টায় জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।