রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্রিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আট আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুই সাংবাদিক রয়েছেন।
আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। এদিন মামলার মোট ৪১ জন আসামির মধ্যে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ৯ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁদের মধ্যে আটজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। উল্লেখ্য, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আগে থেকেই এই মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় ছিলেন।
গ্রেপ্তার দেখানো আট আসামি হলেন— সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল। তাঁরা সবাই মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য মামলায় আগে থেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে অবস্থান করছেন।
ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রথমে একটি বিবিধ মামলা বা মিস কেস করা হয়, যার মাধ্যমে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো সম্ভব। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সেটি মূল মামলায় রূপ নেয় এবং পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শাপলা চত্বরের এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর আজ প্রথমবারের মতো আট আসামিকে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
মামলার আরও দুই আসামি, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক অন্য মামলায় গ্রেপ্তার অথবা সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছেন। তবে আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। পরবর্তী ধার্য তারিখে তাঁদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ এই মামলায় মোট ৪১ জন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন এখনো গ্রেপ্তার হননি। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওই ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং বাকি ১০ জনের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তার না হওয়া এই ৩০ আসামির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।