বর্তমান সরকার গণভোটে জনগণের রায় উপেক্ষা করে স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত এভাবে উপেক্ষা করা হলে জামায়াতে ইসলামী সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বরিশাল মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, "সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষ দিন দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ থেকে জোরপূর্বক বিরত রাখা হচ্ছে। তাঁর মতে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের পর গঠিত সরকার বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে তা আরও বৃদ্ধি করছে।
শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, "মেধার মূল্যায়নের পরিবর্তে আবার নতুন প্রক্রিয়া তৈরি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি চরম রূপ নেবে এবং মেধাবীরা অবমূল্যায়িত হবে—যা অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সচেতন জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।"
রুকনদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি পার্থিব জীবনের সংক্ষিপ্ততার কথা উল্লেখ করে পরকালের পাথেয় অর্জনে এই সময়কে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। তিনি অধিক কুরআন অধ্যয়ন, পারিবারিক পরিশুদ্ধতা রক্ষা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে পূর্ণ সাহস ও হিম্মত নিয়ে আন্দোলনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
তিনি বলেন, "সমাজে আল্লাহর দ্বীন কায়েম এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেই অশুভ শক্তির কুদৃষ্টি ও নির্যাতন নেমে আসে। শোষক গোষ্ঠী এখন সরাসরি নির্যাতনের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং আদর্শিক মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে কর্মীদের চরিত্র নিয়ে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে সব আইনি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে জামায়াতে ইসলামী আজ দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করে এক দায়িত্বশীল ও প্রধান বিরোধী শক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।"
বরিশাল মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দারসুল কুরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। এছাড়া সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ মহানগরী শাখার ষাণ্মাসিক রিপোর্ট পেশ করেন।
সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও তারিকুল ইসলাম, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, মাওলানা হাবিবুর রহমান, আব্দুস সত্তার, শামীম কবির, মাহফুজুর রহমান আমিন, মাওলানা শফিউল্লাহ তালুকদার, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, কোতোয়ালি উত্তর থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, কাউনিয়া থানা আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ী বিভাগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার, আইনজীবী বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের শহীদ, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা সোহরাব হোসাইন এবং ব্যাংকার্স বিভাগের সভাপতি মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।