গাজীপুরের তুরাগ নদে নৌকায় বসে জুয়া খেলার সময় আতঙ্কিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া মোয়াজ্জেম হোসেন নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে মহানগরীর কড্ডা এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুরাগ নদের কাউলতিয়া, কারখানা বাজার ও কড্ডা সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নৌকায় জুয়া ও মাদকের আসর বসানোর একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও নদীতে অবস্থান করার কারণে তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার রাতে মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আরও ৪-৫ জন একটি ট্রলারে বসে জুয়া খেলছিলেন। সেই সময় অপর একটি ট্রলার তাদের কাছে এলে পুলিশ ভেবে তারা নদে ঝাঁপ দেন। এতে তিনজন তীরে ফিরতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হয়ে যান।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালালেও দিনভর তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে শুক্রবার ভোরে কড্ডা এলাকায় মরদেহটি ভেসে উঠলে পুলিশ তা উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, "মোয়াজ্জেমসহ ৪-৫ জন ট্রলারে বসে ছিলেন। এ সময় ৫-৬ জন লোক এসে তাদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন। নেমে না এলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ে তারা নদে ঝাঁপ দেন। তিনজন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।"
তবে পুলিশের দাবি ভিন্ন। গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "ওই দিন ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনো অভিযান চালানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জুয়ার জমায় এবং পুলিশের ভয়ে নদে ঝাঁপ দেন। তিনজন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম উঠতে পারেননি। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি ভালো সাঁতার জানতেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"