আজ বিশ্ব লিজার্ড দিবস। এই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদের মধ্যে আমাদের অতিপরিচিত হলো টিকটিকি। ঘরের দেয়ালে থাকা এই ছোট্ট প্রাণীটি মূলত নিরীহ হওয়া সত্ত্বেও অনেকের মনেই টিকটিকি দেখলে ভয় বা অস্বস্তি তৈরি হয়। কিন্তু কেন এমন হয়?
প্রাণীবিজ্ঞানীরা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সরীসৃপদের আলাদা আলাদা ভাগে বিভক্ত করেছেন, যার একটি ভাগ হলো লিজার্ড। লিজার্ড মূলত নির্দিষ্ট ধরনের কিছু সরীসৃপ। অন্যান্য সরীসৃপের তুলনায় এদের কিছু বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। অধিকাংশ লিজার্ডের পা থাকে, দেহের বাইরে শ্রবণযন্ত্রের ছিদ্র থাকে এবং তাদের চোখের পাতা নড়ে, যদিও কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যায়।
সারা বিশ্বে সাড়ে সাত হাজারের বেশি প্রজাতির লিজার্ড রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের সবচেয়ে পরিচিত হলো টিকটিকি, যাকে অনেকে ঘরের বাসিন্দা হিসেবেই গণ্য করেন। এছাড়া গিরগিটি, তক্ষক এবং গুইসাপও লিজার্ড প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, গুইসাপের নামের সঙ্গে 'সাপ' শব্দটি থাকলেও আদতে সেটি সাপ নয়। লিজার্ডের তালিকায় ইগুয়ানা, স্কিংক এবং কোমোডো ড্রাগনও রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা লিজার্ডদের মধ্যে সবচেয়ে বিশালদেহী হলো বিষাক্ত কোমোডো ড্রাগন। তবে কুমির বা অ্যালিগেটর লিজার্ড প্রজাতির নয়।
সাধারণ টিকটিকিকে ইংরেজিতে 'হাউস লিজার্ড' বা 'হাউস গেকো' বলা হয়। অনেক সময় একে কেবল লিজার্ড হিসেবেও অভিহিত করা হয়। বনের লিজার্ডের তুলনায় ঘরের টিকটিকির স্বভাব ভিন্ন। এরা সাধারণত মানুষকে কামড়ায় না এবং মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতিকর বিষও প্রয়োগ করে না।
নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর প্রতি এই অহেতুক ভয় কাজ করার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক। তিনি জানান, আলাদা কোনো কারণ না থাকলেও মানুষের মনে নির্দিষ্ট প্রাণীর প্রতি ভয় তৈরি হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'ফোবিয়া'। শৈশবের কিছু অভিজ্ঞতাও এই ভয়ের পেছনে দায়ী হতে পারে। তিনি এমন কয়েকটি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন যা টিকটিকি-ভীতি গড়ে তুলতে পারে:
"একটি টিকটিকি কখন দ্রুত চলবে কিংবা কখন থেমে যাবে, তা আমরা অনুমান করতে পারি না। এমন একটা প্রাণী, যা দেখতে খুব একটা আকর্ষণীয়ও নয়, হঠাৎ দ্রুতগতিতে দৃষ্টিসীমার মধ্যে চলে এলে একটি শিশু ভয় পেতে পারে। হয়তো ঘড়ির আড়ালে থাকা টিকটিকি হুট করে এসে একটা ছোট্ট পোকা খেয়ে নিল। এটাই কারও কারও জন্য ভয়ের স্মৃতি হয়ে রয়ে যেতে পারে।"
"আবার হুট করে কোনো শিশুর গায়ে যদি একটি টিকটিকি এসে পড়ে, চমকে উঠতে পারে সে। তার সামনে কারও গায়ে এভাবে টিকটিকি এসে পড়লেও ভয় পেতে পারে সে।"
"কিংবা শৈশবেই যদি সে অন্য কারও টিকটিকি–ভীতির ব্যাপারটা টের পায়, তাহলেও তার টিকটিকি–ভীতি হতে পারে।"
মনোবিজ্ঞানীর মতে, কারও যদি টিকটিকি নিয়ে ভয় অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে, তবে তিনি দৈনন্দিন জীবনে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। কেবল একটি ঘরে টিকটিকির উপস্থিতির কারণেও তিনি আতঙ্কিত হতে পারেন। ভয়ের মাত্রা খুব বেশি হয়ে গেলে একজন মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।