দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘন ঘন লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ধরে নবাবগঞ্জের আফতাবগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা হয়। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন এ উপকেন্দ্রে হামলার পর ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন মঙ্গলবার দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. কামরুজ্জামান ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে নবাবগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, শতাধিক লোক বাঁশের লাঠি দিয়ে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের প্রধান ফটকে আঘাত করছেন। আবার কেউ কেউ ইটপাটকেল ছুড়ে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে ও অফিসকক্ষের জানালার গ্রিল ও গ্লাস ভাঙচুর করছেন। এ সময় ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় অফিসকক্ষের জানালায় নিক্ষেপ করা ইটপাটকেল অফিসকক্ষের ভেতরে ঢুকে যায়। ভাঙচুর করার সময় কয়েকজনকে লাঠি হাতে উল্লাস করতে দেখা যায়। ভাঙচুর করার সময় ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় আশপাশের নারী ও শিশুদের দেখা যায়।

থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের প্রধান ফটক লাঠির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের জানালার কাচ এবং দ্বিতীয় তলায় উত্তর ও পশ্চিম পাশের জানালার কাচ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সিঁড়ির পাশের কাচ ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে আফতাবগঞ্জ পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বিদ্যুতায়ন উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার নবাবগঞ্জ থানায় একটি জিডি হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।