আগামী বছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
আজ সকালে সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নকাল এবং অর্থবরাদ্দসহ বিস্তারিত তথ্য কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া নদীভাঙন রোধে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে সভায় আলোচনা চলে।
সভায় জানানো হয়, ইতিমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জোরালো আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। আগামী বছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এসব প্রকল্পের জন্য মোট ৭ হাজার ৮৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা, বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জনগণের জন্য সরকারি সেবার মানোন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, এ ই সুলতান মাহমুদ, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদ, মুন্সী রফিকুল আলম, মো. ইজ্জত উল্লাহ্, মশিউর রহমান খান এবং মো. অলি উল্লাহ্।
অন্যদিকে, আজ বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণ না করে নিরপেক্ষভাবে গত ছয় মাসে পুলিশ নিয়োগ কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মীর শাহে আলম, কামরুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নুরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন অংশ নেন।