রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে নিজস্ব গাড়ি, ব্যক্তিগত চালক এবং নিজস্ব খরচে জ্বালানি ব্যবহার করে চলাফেরা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ অনুসরণ করে মন্ত্রিপরিষদের ৫ জন প্রতিমন্ত্রী, ৮ জন উপদেষ্টা এবং ২ জন বিশেষ সহকারীও সরকারি গাড়ি গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন।

সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল) সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরের কর্মসূচিতে নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়েই যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; সেখান থেকে সচিবালয়েও যান একই গাড়িতে। গাড়ির পাশাপাশি তিনি প্রটোকলও সীমিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মোটর শোভাযাত্রায় থাকা ১৩–১৪টি গাড়ির বহর কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবহন পুল সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (সুমন), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তবে সরকারের কোনো পূর্ণ মন্ত্রী এই তালিকায় নেই।

উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও মো. রুহুল কবির রিজভী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান পরিবহন পুল থেকে কোনো গাড়ি নেননি। তাঁরা সবাই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।

এছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনিও সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজস্ব গাড়িতে চলাচল করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতীতে পদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি গাড়ি নেওয়ার প্রতিযোগিতা থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে স্থানান্তরের ফলে ভিআইপি চলাচলের জটলা এবং জ্বালানি খরচ—উভয়ই হ্রাস পেয়েছে।