দাখিল পরীক্ষায় সফল হলেও নিজের ফলাফল দেখার সুযোগ পাননি বাগেরহাটের হাফেজ শেখ সিরাজুল ইসলাম। পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন এই মেধাবী তরুণ।

চলতি বছর এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনে যখন হাজারো শিক্ষার্থীর পরিবারে আনন্দের জোয়ার, তখন শোকের ছায়ায় ডুবেছে বাগেরহাটের সিরাজুলের পরিবার। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার চাপাতলা গ্রামের শেখ মিজানুর রহমান ও মাজেদা বেগমের সন্তান এবং উপজেলার বাগদিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। এবারের দাখিল পরীক্ষায় তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার পর বড় চাচা শেখ নজরুল ইসলামের সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজে যোগ দিয়েছিলেন সিরাজুল। পরিবারের আর্থিক অনটনের কথা চিন্তা করে বাবার পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে চাকরি করে সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই গত ১ মে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সিরাজুলের বড় চাচা শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, "আমার ভাইপো আমার সঙ্গে কাজে গিয়েছিল। একটি বাড়িতে ফার্মের মুরগির ঘর তৈরির কাজ করছিলাম। পানির ওপর ঘর তৈরির কাজ শেষে মালামাল গোছাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। অল্প সময়ের মধ্যেই আমার কোলে মারা যায়।"

ছেলের অকাল প্রয়াণে শোকাতুর মা মাজেদা বেগম বলেন, "আমার ছেলে পরীক্ষায় পাস করেছে। কিন্তু সে আর দেখে যেতে পারল না। ওর অনেক আশা ছিল। পরীক্ষা শেষ করে আমাকে বলেছিল, আইডি কার্ড বের করে ঢাকায় গিয়ে চাকরি করবে। বাবাকে আর অন্যের দোকানে কাজ করতে হবে না, সে চাকরি করে বাবার পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু আল্লাহ ওর হায়াত এতটুকুই লিখেছিলেন।"

পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "আমাদের সংসার খুব কষ্টে চলে। ওর বাবা অন্যের দোকানে দর্জির কাজ করেন। চারজনের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। তাই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ছেলেটা কাজে গিয়েছিল।"

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বলেন, "ছেলেটার স্বপ্ন ছিল বাবার পাশে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরা। কিন্তু আজ সে নেই। তার একটি ছোট বোন রয়েছে। সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে তারা কিছুটা ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।"

এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বীথি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সিরাজুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারটি অসচ্ছল হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহায়তার সুযোগ থাকলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।"

স্থানীয়দের দাবি, সিরাজুলের অকালমৃত্যুতে পরিবারটি চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। ছোট বোনসহ পরিবারের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।