গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট জাতীয় জ্বালানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসন করে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরকারি মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কার্যকর রাখার আহ্বান জানায় বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর এই মোর্চা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ছাত্র-জনতার মশালমিছিল’–পরবর্তী এক সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসন, বেসরকারীকরণের প্রতিবাদ এবং ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ক্রমে মুনাফাকেন্দ্রিক বেসরকারি পুঁজির নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তাদের দাবি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রেল ও ওষুধের মতো জনজীবনের অপরিহার্য খাতকে মুনাফার পণ্যে পরিণত করলে সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়বে এবং কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়বে। অতীতের বেসরকারীকরণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারা বলেন, জনগণের সম্পদ বেসরকারি মালিকানায় তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। তাই জাতীয় সম্পদ ও জনসেবার খাত বেসরকারীকরণের নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ‘এটা খুবই স্পষ্ট যে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি করা হয়েছে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার্থে; আর জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিদ্যুতের বিতরণব্যবস্থা বেসরকারীকরণ করা হচ্ছে দেশীয় মাফিয়া করপোরেটদের স্বার্থে। এসবের মধ্য দিয়ে জনজীবনের ভোগান্তি বাড়বে এবং সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণে৵র দাম বেড়ে যাবে। মাফিয়া করপোরেটদের হাতে পুরো দেশ জিম্মি হয়ে পড়বে।’
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—বেসরকারীকরণের নামে জাতীয় জ্বালানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনা বসুন্ধরাসহ ‘মাফিয়া করপোরেট গোষ্ঠী’র হাতে তুলে দেওয়া যাবে না; অবিলম্বে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসন করে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরকারি মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রোনাল চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতা অরুণাভ আশরাফ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বক্তব্য দেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক রাফিকুজ্জামান ফরিদ। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত।