তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের কারসাজি, অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
মঙ্গলবার নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শুমারি সমন্বয়কারীদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত অপরিহার্য। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।"
তথ্য সংগ্রহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, "নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গরমিল বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, "সরকার নৌপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। নৌপথের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা সম্ভব।"
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পেশাদারত্ব ও সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিবিএসের সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী এই শুমারি পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শুমারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।