চলমান জ্বালানি সংকটের মাঝে দেশে গ্যাসের সরবরাহ আবারও হ্রাস পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সোমবার থেকে তা পুনরায় কমতে শুরু করেছে। ফলে মঙ্গলবার সারা দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে জানান, সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে সরবরাহ ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি কমে গেছে। তবে সমুদ্রের পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামীকাল বুধবার থেকে সরবরাহ পুনরায় বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এলএনজির কার্গো (জাহাজ) পাশেই আছে। বৈরী আবহাওয়ার জন্য টার্মিনালে নেওয়া যায়নি। গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।"

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি আমদানির জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই এক অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এর প্রভাব রান্নার চুলা, শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও পরিলক্ষিত হয়।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে, যার প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিকাণ্ডে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে কেবল অক্ষত বয়লারটি দিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পুনরায় চালু করার জন্য বর্তমানে চালু থাকা বয়লারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে পরীক্ষা করতে হবে। এতে অন্তত ১২ ঘণ্টা সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। ছুটির দিনে গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় পেট্রোবাংলা ওই সময়ে এই কাজ করতে আগ্রহী।

সূত্র আরও জানায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সরবরাহ চালুর বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জিকে। জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে চলতি সপ্তাহে এক্সিলারেট থেকে সরবরাহ আর বাড়বে না; বর্তমানে তারা দিনে গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যা স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর সামিটের টার্মিনাল সক্ষমতার চেয়ে বেশি অর্থাৎ দিনে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করেছিল, যা পরবর্তীতে ৫০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এতে মোট সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে হ্রাস পায়। এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর সরবরাহ ২৪৫ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়ে গেলেও চার দিনের মাথায় তা আবারও কমেছে।

সোমবার এলএনজি নিয়ে একটি নতুন জাহাজ পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা খালাস করা যায়নি। ফলে সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ ২৫ কোটি ঘনফুট কমেছে। এতে দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে এবং মঙ্গলবার তা আরও কমতে পারে। ফলে চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলো।