নেত্রকোনার বারহাট্টায় ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মো. শুভ্র মিয়া (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের ভেতরে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শুভ্র মিয়া ওই গ্রামের আব্দুল মোমেনের ছেলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘরের কেবিনে শুভ্রর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন। তখন তারা দেখতে পান, ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় শুভ্র ঝুলছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবার ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে শুভ্র মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তাকে এই আসক্তি থেকে মুক্ত করতে তিন মাস একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) রাখা হয়েছিল। তবে সেখান থেকে ফেরার পর তিনি পুনরায় মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন।

স্বজনদের দাবি, মাদক সেবনের পর শুভ্র অস্বাভাবিক আচরণ করতেন এবং বিভিন্ন সময় পরিবারের সদস্য ও অন্যদের মারধর করতেন। মাদক না পেলে তিনি নিজের শরীরও আঘাত করে রক্তাক্ত করতেন। তার এই আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের সদস্যরা গত প্রায় দুই মাস ধরে তাকে ঘরের একটি কক্ষে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখতেন। কয়েক দিন আগেও তিনি তার মা ঝর্ণা আক্তারকে মারধর করেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

শুভ্রর মা ঝর্ণা আক্তার বলেন, "আগে শুভ্র ভালোই ছিল। প্রায় তিন বছর ধরে মাদকে জড়িয়ে পড়ার পর তার আচরণে পরিবর্তন আসে। মাদক না পেলে মানুষকে মারধর করত। তাকে তিন মাস রিহ্যাবেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রায় দুই মাস ধরে তাকে ঘরের কেবিনে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখতে হতো। আজ ঘরের ভেতরে থাকা কাপড় দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।"

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"