বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চারপাশ অন্ধকারে ডুবে গেলেও মোমবাতির আলোকেই পড়াশোনার সংকল্প ধরে রেখেছিলেন সাইয়েদা ইয়াশফী আবেদীন (সাওদা)। চরম প্রতিকূলতা ও কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন কুমিল্লার এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মনোহরপুর হাই স্কুল থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেন সাওদা। প্রকাশিত ফলাফলে তিনি কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ অর্জন করলেও বাংলায় ‘এ প্লাস’ না আসায় খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার।
সাওদার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে লড়াইয়ের গল্প। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ে এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং হওয়ায় তাকে অনেক রাত মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও পড়াশোনা থামাননি তিনি; মোমবাতির ক্ষীণ আলোতেই বই-খাতা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।
সাওদা জানান, পড়াশোনার সময় বিদ্যুৎ না থাকাটা কষ্টকর হলেও লক্ষ্য স্থির থাকায় এসব প্রতিবন্ধকতাকে তিনি বড় করে দেখেনি। বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা তাকে নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সাওদা বলেন, "আমি একজন দক্ষ ও মানবিক গুণসম্পন্ন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হতে চাই। চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের পাশে দাঁড়ানোই আমার মূল স্বপ্ন।"
সাওদার বাবা জয়নাল আবেদীন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও কুমিল্লা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী। মেয়ের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, "সাওদা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় খুবই মনোযোগী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সে নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। লোডশেডিংয়ের সময় মোমবাতির আলোয় বসেও পড়াশোনা করেছে। তার এই কষ্টের ফল হিসেবে জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতে সে একজন ভালো ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে—এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।"
মেয়ের চমৎকার ফলাফলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন গৃহিণী মা সালমা আক্তার। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাওদার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পাশে থাকবেন।
মনোহরপুর হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থীর সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিকূলতার মাঝে অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।