সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক শোকবার্তায় এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন— বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মৃত গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মহুন প্রামাণিক (৪২) ও সুমুন প্রামাণিক, একই গ্রামের রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)।
পরিবারের সদস্যদের সূত্রে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতরা আত্রাইয়ের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদ শহরের ওই সোফা কারখানায় কর্মরত ছিলেন। রোববার দুপুরে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে, যাতে এই সাত প্রবাসী প্রাণ হারান।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান রোববার রাতে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আত্রাই উপজেলার সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, ডুবাই গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।"
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এক শোক বার্তায় মন্ত্রী বলেন, "সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত।"
নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।