জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের পশ্চিম জামিরা এলাকায় বাঘসদৃশ দুটি প্রাণীর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই আশঙ্কায় সন্ধ্যা নামলেই নিরাপত্তার জন্য লাঠিসোঁটা নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, প্রাণী দুটি বাঘ নয়, বরং বিরল প্রজাতির মেছো বিড়াল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে পশ্চিম জামিরা এলাকায় প্রাণী দুটিকে দেখা যেতে শুরু করে। শরীরে ডোরাকাটা দাগ এবং তুলনামূলক বড় আকারের কারণে অনেকে একে বাঘ বলে মনে করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওই ছবিগুলো জামালপুরের কি না কিংবা বর্তমান ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, "কয়েক দিন ধরে এলাকায় বাঘের মতো প্রাণীর বিচরণ দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর তারা আতঙ্কে থাকেন। দোকানপাটও দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।"

রুবেল হোসেন নামে আরেক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, প্রথমে অন্যদের কাছ থেকে গ্রামে বাঘ বের হওয়ার কথা শুনেছেন এবং পরে ফেসবুকে ছবি দেখেছেন। তিনি নিজে প্রাণীটি না দেখলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে যেতে দিচ্ছেন না এবং গরু-ছাগল দ্রুত ঘরে তুলে ফেলছেন।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থী রিপন মিয়া দাবি করেন, কয়েক দিন আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে হালকা বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার সময় তিনি একটি বাঘসদৃশ প্রাণী দেখতে পান। প্রাণীটি তার অটোরিকশার সামনে দিয়ে গিয়ে ঝোপের মধ্যে বসে পড়ে। কয়েকজন মিলে আলো ফেললেও প্রাণীটি সরে যায়নি, বরং তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল বলে তিনি জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রাণী দুটি রাতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছে এবং অনেকে দূর থেকে তা দেখেছেন। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

সোলাকুড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক জানান, গত সপ্তাহে সন্ধ্যার দিকে তিনি দূর থেকে প্রাণী দুটিকে দেখতে পান। তার মতে, "দেখতে বাঘের মতো এবং শরীরে ডোরাকাটা দাগ ছিল। আকারও তুলনামূলক বড়।" তিনি আরও বলেন, "প্রাণীগুলো আসলে কী, তা বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন। তবে এগুলোকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।"

এই বিষয়ে টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, "স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও বর্ণনা অনুযায়ী প্রাণী দুটি মেছো বিড়াল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মেছো বিড়াল দেখতে কিছুটা বাঘের মতো হলেও সাধারণত মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ নয়। ছবি দেখেও মেছো বিড়াল বলে ধারণা করা হয়েছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।"

বন বিভাগের এই আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পশ্চিম জামিরা এলাকায় উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। সন্ধ্যা হলেই শুরু হচ্ছে সতর্কতা ও পাহারা। স্থানীয়দের মনে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে—দেখা প্রাণী দুটি আসলে বাঘ, নাকি মেছো বিড়াল?