ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাজার ও বাগান পরিদর্শনে গিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে পেয়ারা রপ্তানির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে স্ত্রী মিসেস ডিয়েন ডাওকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রদূত ঝালকাঠির ভীমরুলী এলাকার ভাসমান পেয়ারা বাজার ও বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি স্থানীয় চাষি ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে পেয়ারা চাষ, উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং কৃষকদের জীবন-জীবিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেয়ারা উৎপাদন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে পেয়ারা চাষ হয়। ফ্লোরিডা, হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে পেয়ারা উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
ভীমরুলীর জলপথে নৌকায় নৌকায় পেয়ারা কেনাবেচা এবং বাজারের কর্মচাঞ্চল্য দেখে রাষ্ট্রদূত বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, ভীমরুলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারার বাজার তাকে মুগ্ধ করেছে। এখানকার বাজারের কর্মচাঞ্চল্য, কৃষকদের পরিশ্রম এবং উৎপাদিত পেয়ারার গুণগত মানও তাকে আকৃষ্ট করেছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কৃষিভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভীমরুলীর এই ভাসমান বাজার। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও জলপথে নৌকায় পেয়ারা কেনাবেচার অনন্য দৃশ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই পরিদর্শনে স্থানীয় পেয়ারা চাষি ও বাগান মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক বাজারে ভীমরুলীর পেয়ারার পরিচিতি বাড়লে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন এবং এই অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে।